উপদেশ দেওয়া এবং গ্রহণের শিষ্টাচার: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি
উপদেশ দেওয়া এবং গ্রহণের শিষ্টাচার: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি
ভুল করা মানুষের স্বাভাবিক একটি অংশ, যেই ব্যক্তি হোক—সাধারণ বা নেতা। ইসলামে ভুল থেকে ফিরে আসা এবং পরস্পরের প্রতি আন্তরিক উপদেশ দেওয়া বা নসীহাত দেয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। নবী করীম (সা.) বলেছেন, “ধর্ম হল নসীহাত (আন্তরিক উপদেশ)।” এই উপদেশ আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি, মুসলিম নেতাদের এবং সাধারণ মানুষের প্রতি হওয়া উচিত।
উপদেশদাতার শিষ্টাচার:
১. ভুল নিশ্চিত হওয়া: উপদেশ দেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে ভুল সত্যিই হয়েছে কি না। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) এর উদাহরণ অনুসরণ করতে হবে, যেখানে তিনি নিজের কথা সংশোধন করেছেন।
২. নিজের আচরণ ঠিক রাখা: যিনি উপদেশ দেন, তাকে নিজের কাজেও পরিপূর্ণ হতে হবে। যেমন নবী শুয়াইব (আ.) বলেছেন, তিনি নিজের জন্য যা নিষেধ করেছেন, তাতে অন্যদের থেকে আলাদা হতে চান না।
৩. আন্তরিকতা: উপদেশ দিতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া।
৪. জ্ঞানভিত্তিক পরামর্শ: উপদেশ দেওয়ার সময় জ্ঞানভিত্তিক হওয়া উচিত এবং যাকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে তার মঙ্গল ভাবা জরুরি।
৫. সত্য ও সৎ থাকা: পরামর্শ দেওয়ার সময় মিথ্যা বা তোষামোদ এড়িয়ে চলা উচিত।
৬. একান্তে উপদেশ দেওয়া: জনসমক্ষে নয়, ব্যক্তিগতভাবে উপদেশ দিলে বেশি ফল পাওয়া যায়।
৭. সদয় ও কোমল আচরণ: উপদেশের সময় মিষ্টিভাষী ও নম্র হওয়া আবশ্যক।
৮. ধৈর্য ধারণ: কখনো কখনো উপদেশ গ্রহণকারী বিরক্ত হতে পারে, সেক্ষেত্রে ধৈর্য রাখা জরুরি।
৯. দোষ গোপন: যাকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা উচিত এবং তার পেছনে খারাপ কথা বলা উচিত নয়।
উপদেশ গ্রহণের শিষ্টাচার:
-
উপদেশ গ্রহণ করতে হবে আন্তরিক মনোভাব ও বিনয় নিয়ে।
-
নিজের ভুল মানতে হবে এবং সংশোধনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
-
উপদেশদাতাকে সম্মান দিতে হবে।
উপদেশদাতার গুণাবলী স্বীকার ও প্রার্থনা করা
ইসলামে উপদেশ দেওয়া এবং গ্রহণ করার একটি পূর্ণাঙ্গ শিষ্টাচার রয়েছে, যা মানব সমাজে সৌহার্দ্য ও সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি করে। নসীহাত শুধু ভুল সংশোধন করে না, এটি মুসলিম ব্যক্তির চরিত্র ও মনোভাবকে পরিশীলিত করে।
আসুন, আমরা সবাই ইসলামের শিক্ষা অনুসারে আন্তরিক ও সুন্দর উপদেশ দেওয়ার এবং গ্রহণ করার মাধ্যমে নিজেদের ও সমাজের উন্নতি সাধন করি।

Comments
Post a Comment