তোমরা কি জানো গীবত কী?” তারা বলল: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: “তোমার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা যা সে অপছন্দ করে।” বলা হলো: যদি সে সত্যিই এমন হয়, তাহলে? তিনি বললেন: “তুমি যদি সত্য বলো, তবে তুমি তাকে গীবত করেছ; আর যদি তা মিথ্যা হয়, তবে তুমি তাকে অপবাদ দিয়েছ।”
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“তোমরা কি জানো গীবত কী?”
তারা বলল: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।
তিনি বললেন: “তোমার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা যা সে অপছন্দ করে।”
বলা হলো: যদি সে সত্যিই এমন হয়, তাহলে?
তিনি বললেন: “তুমি যদি সত্য বলো, তবে তুমি তাকে গীবত করেছ; আর যদি তা মিথ্যা হয়, তবে তুমি তাকে অপবাদ দিয়েছ।”
হাদিসের ব্যাখ্যা:
🔹 গীবতের সংজ্ঞা:
ইসলামী পরিভাষায় গীবত হলো—
কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে এমন কিছু বলা, যা সে পছন্দ করে না, তা সত্য হোক বা না হোক।
“গীবত” শব্দটি এসেছে “আল-গাইব” (অদৃশ্য) থেকে, যার অর্থ হলো অনুপস্থিত থাকা। যেহেতু যার সম্পর্কে বলা হয় সে উপস্থিত থাকে না, তাই এটিকে গীবত বলা হয়।
🔹 অপবাদ (বুহতান):
যদি কারো সম্পর্কে মিথ্যা কিছু বলা হয়, তবে সেটিকে “বুহতান” বলা হয় — যা আরও ভয়ানক গুনাহ।
আল্লাহ বলেন:
“যারা মুমিন পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয় এমন অপরাধে যার জন্য তারা দায়ী নয়, তারা তো অপবাদ ও স্পষ্ট গোনাহ বহন করে।”
— [সূরা আল-আহযাব: ৩৩:৫৮]
গীবতের বিভিন্ন রূপ:
ইমাম আন-নওয়াবী (রহ.) বলেন:
গীবত শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
দেহ, ধর্ম, চরিত্র, আচার, অর্থ, বংশ, সন্তান, স্ত্রী, চাকর, পোশাক, চলাফেরা ইত্যাদি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য।
দৃষ্টির ইশারা, কণ্ঠের ভঙ্গি বা এমন আচরণ যা অন্যকে বুঝিয়ে দেয় যে কারো সমালোচনা করা হচ্ছে।
এমনকি লেখা বা হাবভাবে গীবত করা।
গীবত কখন বৈধ হতে পারে?
ইমাম আন-নওয়াবী ও ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) বলেন, ছয়টি ক্ষেত্রে গীবত করা অনুমোদিত, যদি তা একটি শরয়ী প্রয়োজনে হয়ে থাকে:
১. জুলুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা।
২. পাপীকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সহায়তা চাওয়া।
৩. ফতোয়া চাওয়ার উদ্দেশ্যে।
৪. মুসলিমদেরকে সতর্ক করা বা উপদেশ দেওয়া।
৫. যে প্রকাশ্যে পাপ করে, তার ব্যাপারে সতর্ক করা।
৬. চেনার জন্য বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা, যেমন কারো ডাকনাম দিয়ে চেনানো, যদি প্রয়োজন হয়।
গীবতের ক্ষতিকর দিক ও সতর্কতা:
গীবত এমন একটি মহাপাপ, যা মানুষের সম্মান নষ্ট করে।
এটি কুরআনে তুলনা করা হয়েছে ভাইয়ের মৃতদেহ ভক্ষণ করার সাথে!
“তোমরা কি তোমাদের মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পছন্দ করো? নিশ্চয়ই তোমরা তা ঘৃণা করো।”
— [সূরা আল-হুজুরাত: ৪৯:১২]
ভয়াবহ শাস্তি:
নবী (সাঃ) বলেন:
"আমি কিছু লোককে দেখলাম যারা তামার নখ দিয়ে তাদের মুখ ও বুক আঁচড়াচ্ছে।"
জিবরাঈল বললেন:
"এরা সেই লোক যারা মানুষের গীবত করত ও তাদের সম্মানহানি করত।"
— আহমাদ; আবু দাউদ; সহিহ
আমরা কী শিখলাম?
গীবত এমনকি সত্য হলেও হারাম।
মিথ্যা হলে সেটা বুহতান — আরও বড় গোনাহ।
একজন মুসলমানের পেছনে সমালোচনা করা তার সম্মান হরণ করার নামান্তর।
গীবতের কারণে আল্লাহ আমাদের গোপন দোষ প্রকাশ করে দিতে পারেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
🔹 অমুসলিম বা ইসলাম বিরোধীদের সম্পর্কে গীবত ইসলামী পরিভাষায় প্রযোজ্য নয়, কারণ গীবতের নিষেধাজ্ঞা মুসলিম ভাইয়ের সম্মান রক্ষার জন্য।
গীবত একটি নিরব হত্যার মতো, যা সম্পর্ক নষ্ট করে, আত্মা কলুষিত করে এবং আল্লাহর নিকট ধ্বংস ডেকে আনে।
চলুন, আমরা গীবত থেকে দূরে থাকি, নিজেদের আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যাই।

Comments
Post a Comment