সূরা আল ফজর এবং প্রশান্ত আত্মার আহ্বান
সূরা আল ফজর এবং প্রশান্ত আত্মার আহ্বান
আল্লাহ তাআলা যখন মানুষের ভুল ধারণা স্পষ্ট করেন, যখন তারা পরীক্ষার প্রকৃতি এবং কেন আল্লাহ কাউকে সম্পদ দেন বা কেড়ে নেন তা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তখন তিনি কিয়ামতের দিনের সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, যখন পৃথিবী সমান করে ফেলা হবে, চূর্ণ বিচূর্ণ ও বিধ্বস্ত করা হবে, তখন তোমার প্রতিপালক আসবেন এবং ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। সেদিন জাহান্নামকে সামনে আনা হবে। সেদিন মানুষ তার অতীত স্মরণ করবে, কিন্তু সেই স্মরণ তার জন্য কোনো উপকারে আসবে না। সে বলবে, হায় আমি যদি আমার জীবনের জন্য কিছু ভালো কাজ আগে পাঠাতাম।
আল্লাহ বলেন, সেদিন কেউ আল্লাহর মতো শাস্তি দিতে পারবে না এবং কেউ তাঁর মতো কঠিনভাবে বাঁধতে পারবে না। আর সেই দিনের ভয়াবহতার মধ্যে সৎ আত্মাকে বলা হবে, হে প্রশান্ত আত্মা, তোমার প্রভুর দিকে ফিরে যাও, সন্তুষ্ট হয়ে এবং তোমার প্রভুও তোমাতে সন্তুষ্ট। আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।
এই আয়াতগুলো আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার সম্পদ, সম্মান বা প্রতিযোগিতা কিছুই চিরস্থায়ী নয়। একদিন এই পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হবে, পর্বতসমূহ ধসে পড়বে এবং পৃথিবী প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠবে। ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের বিচার করবেন, যেমন তাঁর মহিমার উপযুক্ত।
সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, যাকে ফেরেশতারা টেনে নিয়ে আসবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সেদিন জাহান্নামকে সত্তর হাজার লাগাম নিয়ে আনা হবে, প্রতিটি লাগাম সত্তর হাজার ফেরেশতা ধরে টেনে আনবে।
মানুষ তখন অনুশোচনায় পূর্ণ হবে। সে স্মরণ করবে কীভাবে সে জীবনে অবাধ্যতা করেছে, আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছে, এবং দুনিয়ার মোহে ডুবে থেকেছে। কিন্তু তখন স্মরণের আর কোনো মূল্য থাকবে না। সে বলবে, হায়, আমি যদি আমার জীবনের জন্য কিছু ভালো আগে পাঠাতাম।
আল্লাহ বলেন, সেদিন তাঁর শাস্তির মতো আর কেউ শাস্তি দেবে না এবং তাঁর বন্ধনের মতো আর কেউ বাঁধবে না। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা করেছে, তার শাস্তি হবে সবচেয়ে কঠিন। আবার এর আরেকটি অর্থ হলো, সেদিন কোনো অপরাধীকেই এমনভাবে আবদ্ধ করা হবে না যেমন আল্লাহ আবদ্ধ করবেন।
কিন্তু এই ভয়াবহতার মাঝেও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জন্য আহ্বান থাকবে। বলা হবে, হে প্রশান্ত আত্মা, যে আল্লাহর স্মরণে প্রশান্তি পেয়েছিল, তাঁর আদেশে সন্তুষ্ট ছিল, এবং কষ্টেও ধৈর্য ধরেছিল, এখন ফিরে যাও তোমার প্রভুর কাছে, যিনি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তুমিও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং জান্নাতে প্রবেশ করো।
এই আয়াতগুলো থেকে আমরা শিখি যে, কিয়ামতের দিন বাস্তব এবং আল্লাহর আগমন সত্যিকার অর্থে ঘটবে, যেমনটি তাঁর মহিমার উপযুক্ত। আমরা আল্লাহর বাণীকে বিকৃত না করে বিশ্বাস করি, যেমন আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা।
আমরা আরও শিখি কিয়ামতের ভয়াবহতা ও তার গুরুত্ব সম্পর্কে। জাহান্নামকে আনা হবে, ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে, আল্লাহ বিচার করবেন। গাফিল মানুষ তখন অনুশোচনা করবে, কিন্তু তখন আর কিছু করার সুযোগ থাকবে না। এখনই সময় নিজের জীবনের জন্য কিছু আগে পাঠানোর।
আজ আমরা যে জীবন যাপন করছি, সেটি আসল জীবন নয়। এটি হলো পরীক্ষার ময়দান। আসল জীবন শুরু হবে মৃত্যুর পর, আখিরাতে। তাই এখনই প্রশ্ন করা উচিত, আমি আমার জীবনের জন্য কী পাঠাচ্ছি।
হে প্রশান্ত আত্মা, আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ফিরে যাও, কারণ সেই দিন আসবেই, যখন অনেকে বলবে, হায়, আমি যদি আমার জীবনের জন্য কিছু ভালো কাজ আগে পাঠাতাম।
Comments
Post a Comment