ইসলাম সম্পর্কে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত বিষয় অস্বীকার করলে কী হয়?
ইসলাম সম্পর্কে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত বিষয় অস্বীকার করলে কী হয়?
ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা হলো — আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ যা স্পষ্টভাবে ফরজ, হারাম বা সত্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন, একজন মুসলিমের জন্য তা বিশ্বাস করা ও মেনে চলা বাধ্যতামূলক। যদি কেউ সেসব বিষয় অস্বীকার করে, অথচ জানে যে সেগুলো ইসলামে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত, তাহলে তা ঈমানের উপর গুরুতর আঘাত হানে।
🔹 প্রশ্ন ১:
“যে ব্যক্তি ইসলামী শিক্ষায় স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয় অস্বীকার করে, তার অবস্থা কী হবে?”
উত্তর:
➡️ সে কাফির (অবিশ্বাসী) হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা:
ইসলামে কিছু বিষয় এমন আছে যা কুরআন ও হাদীসে একেবারে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত — যেমন নামাজ, রোযা, যাকাত, হজ ফরজ; সুদ হারাম; মদ নিষিদ্ধ; আল্লাহ একমাত্র উপাস্য ইত্যাদি।
যদি কেউ এসবের মধ্যে কোনো একটি বিষয়কে অস্বীকার করে (যেমন বলে, “নামাজ ফরজ নয়” বা “মদ হারাম নয়”), অথচ সে জানে ইসলাম এগুলোকে স্পষ্টভাবে ফরজ বা হারাম ঘোষণা করেছে — তাহলে সে ইসলামের সীমার বাইরে চলে যায়।
📖 দলিল:
আল্লাহ বলেন:
“যে কেউ ঈমানের পর আল্লাহকে অস্বীকার করে... তার উপর আল্লাহর ক্রোধ আছে এবং তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।” (সূরা আন-নহল ১৬:১০৬)
🔹 প্রশ্ন ২:
“যে ব্যক্তি জানে যে রমজানের রোযা রাখা ফরজ, কিন্তু সে তা অস্বীকার করে, তার অবস্থা কী?”
উত্তর:
➡️ সে কাফির (অবিশ্বাসী) হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা:
রমজানের রোযা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত…” (বুখারী ও মুসলিম)
যদি কেউ বলে, “রমজানের রোযা ফরজ নয়”, অথচ সে জানে যে ইসলাম এটিকে ফরজ করেছে, তবে সে কেবল রোযা না রাখার গুনাহগার নয় — বরং সে কুফরি করে ফেলেছে, কারণ সে ইসলামের একটি মৌলিক ফরজ বিষয় অস্বীকার করেছে।
তবে, কেউ যদি রোযা রাখে না কিন্তু ফরজ বলে বিশ্বাস করে, তাহলে সে কাফির নয়, বরং গুনাহগার মুসলিম। কিন্তু যদি সে বলে “রোযা ফরজ নয়”, তখন সেটি ইসলামের এক মৌলিক সত্য অস্বীকার করা — যা ঈমানকে বাতিল করে দেয়।
সারসংক্ষেপে বলা যায়:
| বিষয় | যদি কেউ অস্বীকার করে | ইসলামী রায় |
|---|---|---|
| ইসলামের স্পষ্ট সত্য | যেমন নামাজ, রোযা, যাকাত, মদ হারাম ইত্যাদি | কুফরি (ঈমান থেকে বের হয়ে যাওয়া) |
| ফরজ কাজ মানে কিন্তু পালন করে না | যেমন জানে রোযা ফরজ, তবুও অলসতা বা গাফিলতিতে রাখে না | গুনাহ, কিন্তু কুফরি নয় |
একজন মুসলমানের উচিত ইসলামের সকল স্পষ্ট বিধানকে আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করা এবং তা পালন করার চেষ্টা করা।
ইসলামের ফরজ বা হারাম বিষয় অস্বীকার করা শুধু একটি ভুল নয় — বরং এটি ঈমানকে নষ্ট করে দিতে পারে।
আমরা যেন সর্বদা আল্লাহর নিকট দো‘আ করি:
“হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে সত্যের উপর অটল রাখো, এবং আমাদেরকে ঈমানের পথে স্থির রাখো।”
আপনি কি চান আমি এই লেখাটির একটি সংক্ষিপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া ভার্সন (যেমন ফেসবুক বা ব্লগপোস্টের জন্য ১ মিনিটে পড়া যায় এমন ছোট ভার্সন) তৈরি করে দিই?

Comments
Post a Comment