Posts

ইচ্ছা ও খেয়াল-খুশির প্রভাব: হৃদয়ের রোগ থেকে মুক্তির পথ

Image
  ইচ্ছা ও খেয়াল-খুশির প্রভাব: হৃদয়ের রোগ থেকে মুক্তির পথ মানুষের হৃদয় হলো তার চরিত্র, ইবাদত ও আচরণের মূল কেন্দ্র। কিন্তু অনেক সময় আমরা আমাদের নফস, ইচ্ছা ও খেয়াল-খুশির জালে আটকে পড়ি, যা আমাদের ইসলামী জীবন, ইমান এবং আখেরাতের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এই ব্লগে আমরা জানব—কেন খেয়াল-খুশি এবং আকাঙ্ক্ষার অনুসরণ ক্ষতিকর, এর কারণগুলো কি এবং আমরা কিভাবে নিজের হৃদয়কে সুস্থ রাখতে পারি। ইচ্ছা ও খেয়াল-খুশির সংজ্ঞা ভাষাগত অর্থে, “হাওয়া” হলো কোনো জিনিস পছন্দ করা বা আকাঙ্ক্ষা করা। ইসলামী পরিভাষায়, হাওয়া মানে হলো—ইসলামের নির্দেশাবলীর প্রতি অমনোযোগী হয়ে শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছার আনন্দ খোঁজা। শরীয়াহ আমাদের সতর্ক করেছে, যে কোনো কাজের মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত আল্লাহর নসিহত, কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী হতে হবে, না কি শুধুমাত্র নফসের ইচ্ছার দ্বারা। ইচ্ছা অনুসরণের কারণগুলো মানুষ কেন নিজের খেয়াল-খুশি অনুসরণ করে? মূল কারণগুলো হলো: শিশুকাল থেকে নিয়ন্ত্রণহীন: ছোটবেলায় যখন কেউ নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে এবং সীমাবদ্ধতা শেখানো হয় না, তখন সে বড় হয়ে ইচ্ছার দাস হয়ে যায়। প্রতিকূল সঙ্গ: যারা...

“তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় তারাই, যারা তোমাদের মধ্যে আচরণের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম।

  “তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় তারাই, যারা তোমাদের মধ্যে আচরণের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম।” এর মূল শিক্ষা কী? 🔹 নবী ﷺ–এর নিকট প্রিয় হওয়ার মানদণ্ড এখানে রাসূল ﷺ স্পষ্ট করে দিয়েছেন— তাঁর কাছে প্রিয় হওয়ার মাপকাঠি হলো: সুন্দর আচরণ শালীন ভাষা ধৈর্য, সহনশীলতা ও নম্রতা ইবাদতের সংখ্যা নয়, বরং মানুষের সাথে ব্যবহার । 🔹 আচরণ ঈমানের প্রতিফলন উত্তম আখলাক প্রমাণ করে— হৃদয় পরিশুদ্ধ ঈমান জীবন্ত সুন্নাহ বাস্তব জীবনে কার্যকর এ কারণেই নবী ﷺ বলেছেন: “মুমিনদের মধ্যে পূর্ণ ঈমানদার তারাই, যাদের চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।” 🔹 সুন্দর আচরণ—সবাইকে নিয়ে এই হাদিস শুধু পরিবার বা বন্ধুদের জন্য নয়— শত্রু ভিন্নমতাবলম্বী দুর্বল ও সাধারণ মানুষ সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। উপসংহার যে ব্যক্তি নবী ﷺ–এর ভালোবাসা চায়, সে যেন প্রথমে নিজের আচরণ সুন্দর করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম আখলাকের মাধ্যমে নবী ﷺ–এর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।

তাকফিরের বিদ‘আত—উম্মাহর জন্য এক ভয়াবহ বিপদ

Image
  তাকফিরের বিদ‘আত—উম্মাহর জন্য এক ভয়াবহ বিপদ ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু ভ্রান্ত ধারণা ও বিদ‘আত রয়েছে, যা শুধু ব্যক্তি নয়— পুরো উম্মাহকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে । এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক, সবচেয়ে ক্ষতিকারক এবং আল্লাহর ক্রোধ ও কঠিন শাস্তির দিকে সবচেয়ে দ্রুত নিয়ে যায় এমন একটি বিদ‘আত হলো— অন্য মুসলমানকে কাফের (তাকফির) মনে করা । এই ভ্রান্ত আক্বীদার সূচনা করেছিল খারেজিরা , যারা সালিশের ঘটনার পর খলিফা আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। তাকফির কী? তাকফির বলতে বোঝায়— 👉 কাউকে নিশ্চিতভাবে মুসলিম প্রমাণিত হওয়ার পরও 👉 তাকে কাফের বা অবিশ্বাসী বলে গণ্য করা । এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়; বরং এটি একটি শরয়ী সীমালঙ্ঘন , যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। তাকফিরের ভয়াবহ পরিণতি রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকফিরের ব্যাপারে উম্মাহকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার ভাইকে বলে: ‘হে কাফের’, তাদের একজনের উপর তা ফিরে যায়।” — সহীহ বুখারী ও মুসলিম আরও বলেছেন: “কেউ অন্যায়ভাবে কাউকে কুফরের অভিযোগ করলে, সে যদি প্রকৃতপক্ষে কাফের না হয়, তবে অভিযোগটি তা...

বিদ‘আত কী এবং কেন তা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি?

Image
  বিদ‘আত কী এবং কেন তা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি? আল্লাহর দ্বীনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো সঠিক আক্বীদা । আক্বীদা বিশুদ্ধ না হলে ইবাদত বাহ্যিকভাবে সুন্দর হলেও তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। এই পর্বে আমরা আলোচনা করবো একটি সংবেদনশীল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— বিদ‘আত । অনেক সময় দেখা যায়, কিছু মানুষ বলে থাকেন: “আমরা তো নামাজ পড়ছি, যিকির করছি, এতে সমস্যা কোথায়? আমরা তো কোনো ঝামেলা করছি না।” কিন্তু ইসলামে কোনো কাজ ভালো মনে হলেই তা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। বরং প্রতিটি ইবাদতের জন্য কুরআন ও সুন্নাহ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ থাকতে হয়। বিদ‘আত কী? বিদ‘আত বলতে বোঝায়— ➡️ দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো ইবাদত বা পদ্ধতি সংযোজন করা, ➡️ যার কুরআন, সহীহ সুন্নাহ বা সাহাবীদের আমল থেকে কোনো প্রমাণ নেই , ➡️ অথচ সেটিকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম মনে করা হয়। নবী ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কিছু সংযোজন করলো, যা এর অংশ নয়—তা প্রত্যাখ্যাত।” — সহীহ বুখারী ও মুসলিম   উদাহরণ: আল-ক্বিরাআত আস-সামাদিয়্যাহ কিছু তরীকাহ ও গোষ্ঠীর মধ্যে একটি প্রচলিত আমল হলো— 🔸 সূরা আল-ইখলাস...

সূরা আত-তিন: মানুষের মর্যাদা ও পতনের বাস্তবতা

Image
  সূরা আত-তিন: মানুষের মর্যাদা ও পতনের বাস্তবতা কুরআনের সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ সূরাগুলোর একটি হলো সূরা আত-তিন । এটি একটি মক্কী সূরা , যা এমন এক সময়ে অবতীর্ণ হয় যখন ঈমান, আখিরাত ও নৈতিকতার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার প্রয়োজন ছিল সবচেয়ে বেশি। এই সূরাটি মানুষকে তার আসল মর্যাদা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং সতর্ক করে দেয়—এই মর্যাদা হারানো কতটা ভয়াবহ হতে পারে। আল্লাহর শপথ ও তার তাৎপর্য সূরার শুরুতেই আল্লাহ তাআলা চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শপথ করেছেন—ডুমুর, জলপাই, সিনাই পর্বত এবং নিরাপদ নগরী মক্কা। এগুলো কেবল ফল বা স্থান নয়; বরং ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নবীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত পবিত্র নিদর্শন। ডুমুর ও জলপাই ইঙ্গিত করে আশ-শাম অঞ্চলকে, যেখান থেকে হযরত ঈসা (আ.)-এর নবুওয়াত শুরু হয়েছিল। সিনাই পর্বত সেই পবিত্র স্থান, যেখানে হযরত মূসা (আ.) আল্লাহর সাথে কথা বলার সৌভাগ্য অর্জন করেন। আর নিরাপদ নগরী মক্কা হলো মানবজাতির শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর রিসালাতের সূচনাস্থল। এই শপথগুলো প্রমাণ করে—যে বার্তা আসছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সত্য। মানুষ: সর্বোত্তম সৃষ্টি আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম গঠ...

সূরা আশ-শারহ: কষ্টের মাঝেই লুকিয়ে থাকা স্বস্তির মহাসংবাদ

  সূরা আশ-শারহ: কষ্টের মাঝেই লুকিয়ে থাকা স্বস্তির মহাসংবাদ কুরআনের ছোট কিন্তু অত্যন্ত গভীর অর্থবহ সূরাগুলোর মধ্যে সূরা আশ-শারহ (আলাম নাশরাহ) একটি অনন্য সূরা। এটি একটি মক্কী সূরা , অর্থাৎ হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ, এমন এক সময় যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর অনুসারীরা চরম কষ্ট, নির্যাতন ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সূরার প্রতিটি আয়াত নবী ﷺ-কে সান্ত্বনা দেয়, শক্তি জোগায় এবং একই সঙ্গে সমগ্র উম্মাহকে আশার আলো দেখায়। সূরা আশ-শারহের আয়াত ও অর্থ (সংক্ষেপে) আল্লাহ তাআলা বলেন: “আমি কি তোমার হৃদয় প্রশস্ত করে দিইনি? আমি কি তোমার উপর থেকে তোমার বোঝা সরিয়ে দিইনি— যা তোমার পিঠকে ভারী করে তুলেছিল? আর আমি কি তোমার জন্য তোমার মর্যাদা উচ্চ করে দিইনি? নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। অতএব যখন তুমি অবসর পাও, তখন ইবাদতে মনোনিবেশ করো। আর তোমার রবের দিকেই তোমার আকাঙ্ক্ষা নিবদ্ধ করো।” (সূরা আশ-শারহ ৯৪:১–৮) সূরার ব্যাখ্যা ও গভীর শিক্ষা ১. হৃদয় প্রশস্ত করে দেওয়া – আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ “আমি কি তোমার হৃদয় প্রশস্ত করে দিইনি?” এর অর্থ—আল্লাহ রাসূল ...

বিদআত (উদ্ভাবন): দ্বীনের জন্য নীরব কিন্তু ভয়ংকর হুমকি

Image
বিদআত (উদ্ভাবন): দ্বীনের জন্য নীরব কিন্তু ভয়ংকর হুমকি ইসলামে বিদআত (উদ্ভাবন) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। কারণ বিদআতের আলোচনা মূলত কুরআন ও সুন্নাহকে সংরক্ষণ করার জন্যই করা হয়। আজকের বাস্তবতায় আমরা দেখতে পাই—অনেক মুসলিম অজান্তেই এমন সব বিশ্বাস ও আমল গ্রহণ করছেন, যেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই কুরআন ও সহিহ সুন্নাহতে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় বিদআতকেই “সুন্নাহ” বলে প্রচার করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যারা বিদআত চালু করে, তাদের উদ্দেশ্য মন্দ নয়। কিন্তু সমস্যা হলো—ভালো নিয়ত থাকলেই কোনো কাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না, যদি তা রাসূল ﷺ-এর পথের বিরুদ্ধে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: “বলুন, আমি কি তোমাদেরকে কর্মের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের কথা জানাবো? তারা হলো তারা—যাদের দুনিয়ার জীবনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, অথচ তারা মনে করত যে তারা ভালো কাজ করছে।” (সূরা আল-কাহফ ১৮:১০৩–১০৪) বিদআতের সংজ্ঞা ভাষাগত অর্থ আরবি ভাষায় বিদআত বলতে বোঝায়—কোনো কিছুকে নতুনভাবে সৃষ্টি করা, যা আগে ছিল না। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: “তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা (বাদী’)।” (সূরা আল-বাকারা ২:১১৭) অর্থাৎ, পূর্বে...