Posts

মোহ (ইশক): হৃদয়ের একটি বিপজ্জনক রোগ

  মোহ (ইশক): হৃদয়ের একটি বিপজ্জনক রোগ মানুষের হৃদয়কে কলুষিত করে এমন সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক রোগগুলোর একটি হলো মোহ বা ইশক । এটি এমন এক ধরনের অতি-আসক্তি বা প্রেম, যা মানুষকে ধীরে ধীরে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে মানুষের ভালোবাসা ও অনুভূতি থাকবে, কিন্তু সেই ভালোবাসা যেন সীমা অতিক্রম না করে এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার উপর প্রাধান্য না পায়। মোহ কী? মোহ বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের চরম ভালোবাসা, যেখানে একজন ব্যক্তি কোনো মানুষ বা বস্তুর প্রতি এত বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে যে সে তার সাথে থাকার জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে। এই আকর্ষণ কখনো কখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে ব্যক্তি তার জীবন, ধর্ম এবং নৈতিকতা পর্যন্ত ভুলে যেতে পারে। মোহের বিপদ অনেক মানুষ মনে করে যে প্রেম বা মোহ মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং তাকে উন্নত করে। কিন্তু বাস্তবে এটি প্রায়ই বিপরীত ফল বয়ে আনে। ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের অভিজ্ঞতা দেখায় যে মোহের ক্ষতি তার উপকারের তুলনায় অনেক বেশি। প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) বলেন: “মোহ মানুষের বুদ্ধি ও জ্ঞানের অবক্ষয়...

শারীরিক আকাঙ্ক্ষা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন: ইসলামের দৃষ্টিতে সমাধান

  শারীরিক আকাঙ্ক্ষা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন: ইসলামের দৃষ্টিতে সমাধান মানুষের জীবনে শারীরিক আকাঙ্ক্ষা একটি স্বাভাবিক বিষয়। আল্লাহ তাআলা মানুষকে এই প্রবৃত্তি দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। তবে তাঁর অসীম করুণার কারণে তিনি মানুষকে পথনির্দেশনা ছাড়া ছেড়ে দেননি। বরং তিনি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা দিয়েছেন— ইসলাম , যা মানুষের জীবনের প্রতিটি সমস্যার সমাধান দেয়। এর মধ্যে রয়েছে হারাম শারীরিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করার উপায়ও। ইসলাম আমাদেরকে এমন কিছু কার্যকর পদ্ধতি শিখিয়েছে, যা মানুষের কামনা-বাসনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং পবিত্র জীবনযাপন করতে সাহায্য করে। ১. বিয়ে: পবিত্রতার সর্বোত্তম পথ ইসলামে শারীরিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো বিয়ে । বিয়ে মানুষের দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং পবিত্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ এটি দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থান রক্ষা করতে অধিক কার্যকর।” — (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম) এখানে “সামর্থ্য” বলতে...

নবী করীম ﷺ–এর হাসি ও মধুর আচরণ

  নবী করীম ﷺ–এর হাসি ও মধুর আচরণ নবী করীম মুহাম্মদ ﷺ ছিলেন অত্যন্ত কোমল স্বভাবের ও সদাচারী। তাঁর চরিত্রের একটি সুন্দর দিক ছিল তাঁর মধুর হাসি । তিনি মানুষের সাথে দেখা করলে প্রায়ই হাসিমুখে কথা বলতেন। এই হাসি মানুষের হৃদয় জয় করত এবং লোকেরা তাঁর প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হত। তাঁকে দেখে মানুষ স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করত। নবীর হাসির কারণ নবী ﷺ–এর হাসি বিভিন্ন কারণে প্রকাশ পেত। যেমন: তাঁর স্ত্রী ও সাহাবীদের প্রতি দয়া ও সৌজন্য প্রদর্শনের জন্য কারো আনন্দে অংশগ্রহণ করার জন্য কোন কথা সমর্থন বা নিশ্চিত করার জন্য কোন ভাল বা আনন্দদায়ক বিষয় দেখে খুশি প্রকাশ করার জন্য কোন বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করার জন্য অথবা কোন মজার কথা শুনে বা আনন্দদায়ক ঘটনা দেখে এই সব ক্ষেত্রেই তিনি কোমলভাবে হাসতেন, যা তাঁর সুন্দর চরিত্রের পরিচয় বহন করে। নবী ﷺ যেভাবে হাসতেন নবী করীম ﷺ–এর হাসি সম্পর্কে সাহাবীগণ গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর হাসি ছিল মূলত একটি মৃদু হাসি (মুচকি হাসি) ছাড়া আর কিছু নয়।” — (তিরমিযী, আল-আলবানী সহীহ বলেছেন) ...

সূরা আল-ফীল: কাবা রক্ষায় আল্লাহর অলৌকিক সাহায্য

  সূরা আল-ফীল: কাবা রক্ষায় আল্লাহর অলৌকিক সাহায্য সূরা আল-ফীল পবিত্র কুরআনের একটি মক্কী সূরা, অর্থাৎ এটি হিজরতের আগে মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরায় আল্লাহ তাআলা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—যখন ইয়েমেনের শাসক আবরাহা বিশাল সেনাবাহিনী ও হাতি নিয়ে কাবা শরীফ ধ্বংস করতে এসেছিল, কিন্তু আল্লাহ তাঁর অলৌকিক শক্তির মাধ্যমে তাদের ধ্বংস করে দেন। সূরার নামকরণ এই সূরার নাম “আল-ফীল” , যার অর্থ “হাতি” । কারণ এই সূরায় সেই সেনাবাহিনীর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যারা হাতি নিয়ে কাবা ধ্বংস করতে এসেছিল। কিছু প্রাচীন আলেম এই সূরাকে “আলাম তারা” (তুমি কি ভেবে দেখোনি) নামেও উল্লেখ করেছেন, কিন্তু অধিকাংশ মুশহাফ ও তাফসির গ্রন্থে এর নাম সূরা আল-ফীল হিসেবেই পরিচিত। হাতিওয়ালাদের ঘটনা আল্লাহ তাআলা বলেন: “তুমি কি দেখোনি তোমার প্রতিপালক হাতিওয়ালাদের সাথে কী করেছিলেন? তিনি কি তাদের চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দেননি? এবং তিনি তাদের বিরুদ্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন, যারা তাদেরকে পোড়া মাটির পাথর দিয়ে আঘাত করছিল, ফলে তিনি তাদেরকে খাওয়া খড়ের মতো করে দিলেন।” (সূরা আল-ফীল ১০৫:১–৫) এই ...

সূরা আল-হুমাযাহ: উপহাসকারী ও সম্পদলোভীদের জন্য কঠিন সতর্কবার্তা

  সূরা আল-হুমাযাহ: উপহাসকারী ও সম্পদলোভীদের জন্য কঠিন সতর্কবার্তা সূরা আল-হুমাযাহ পবিত্র কুরআনের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত গভীর অর্থবহ সূরা। এটি একটি মক্কী সূরা , অর্থাৎ হিজরতের আগে মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরায় আল্লাহ তাআলা এমন কিছু মানুষের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন যারা অন্যদের নিয়ে উপহাস করে, নিন্দা করে এবং সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত থাকে। সূরার মূল বার্তা আল্লাহ তাআলা বলেন যে প্রত্যেক উপহাসকারী ও নিন্দাকারীর জন্য ধ্বংস ও দুর্ভোগ রয়েছে । এখানে দুই ধরনের মানুষের কথা বলা হয়েছে: হুমাযাহ (Humazah): যে ব্যক্তি অঙ্গভঙ্গি, ইশারা বা আচরণের মাধ্যমে অন্যদের অপমান করে। লুমাযাহ (Lumazah): যে ব্যক্তি কথার মাধ্যমে অন্যদের নিন্দা করে, দোষ খুঁজে বের করে এবং অপমান করে। এই ধরনের মানুষ সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে, মানুষের দোষ খুঁজে বেড়ায় এবং গীবত ও অপবাদ ছড়ায়। সাহাবী ইবনে আব্বাস (রাঃ) ব্যাখ্যা করেছেন যে এই লোকেরা সেইসব ব্যক্তি যারা মানুষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে এবং অন্যদের ত্রুটি প্রকাশ করতে আনন্দ পায়। সম্পদের প্রতি অতি আসক্তি এই সূরায় আরেকটি বড় সমস্যা তুলে ধরা হয়ে...

আল্লাহর পছন্দ ও অপছন্দ – ইসলামী শিষ্টাচারের নির্দেশনা

  আল্লাহর পছন্দ ও অপছন্দ – ইসলামী শিষ্টাচারের নির্দেশনা হাদিসের উক্তি: আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: «আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি জিনিস পছন্দ করেন এবং তিনটি জিনিস অপছন্দ করেন। তিনি তোমাদের জন্য তাঁর ইবাদত করা, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা এবং আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং বিভক্ত না হওয়া পছন্দ করেন। আর তিনি তোমাদের জন্য পরচর্চা, অতিরিক্ত চাওয়া এবং সম্পদ অপচয় করা অপছন্দ করেন।» (মুসলিম) বাক্যাংশের ব্যাখ্যা: পরচর্চা (গসিপ): অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আগ্রহী হওয়া, যা আমাদের সাথে সম্পর্কিত নয়। অতিরিক্ত চাওয়া: অপ্রয়োজনীয় বা অহেতুক জিজ্ঞাসা ও প্রয়োজনের বাইরে আকাঙ্ক্ষা। সম্পদ অপচয়: অর্থের অপব্যবহার, পাপ বা অপ্রয়োজনীয় কাজে খরচ করা। আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা: কুরআন ও সুন্নাহর পথে দৃঢ় থাকা, আল্লাহর একত্ব ও সত্যিকার ইবাদত মেনে চলা। সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: হাদিসটি ইসলামী শিষ্টাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। আল্লাহ যা পছন্দ করেন তা অনুসরণ করলে জীবন, সম্পদ এবং প্রচেষ্টা নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়। উম্মতে...

একজন ভালো মুসলিম হওয়ার অংশ – সম্পর্কিত নয় এমন বিষয়গুলো ত্যাগ করা

  একজন ভালো মুসলিম হওয়ার অংশ – সম্পর্কিত নয় এমন বিষয়গুলো ত্যাগ করা হাদিসের উক্তি: আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «একজন ব্যক্তির ভালো মুসলিম হওয়ার একটি অংশ হলো তার সাথে সম্পর্কিত নয় এমন বিষয়গুলো ত্যাগ করা।» (তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ; আল-আলবানী: হাসান) বাক্যাংশের ব্যাখ্যা: “যা তাকে চিন্তিত করে না” – এখানে উদ্বেগ বলতে বোঝানো হয়েছে অতিরিক্ত আগ্রহ বা অনভিপ্রেত কৌতূহল। অর্থাৎ, যা ব্যক্তি বা তার কর্তব্যের সাথে সম্পর্কিত নয়, তা থেকে দূরে থাকা। সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: হাদিসটি শিষ্টাচারের মূল নীতি প্রদর্শন করে। আলেমরা বলেছেন, সমস্ত ভালো শিষ্টাচার চারটি হাদিস থেকে উদ্ভূত হয়, যেমন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। রাগ না করা। একজন মুসলিম তার ভাইয়ের জন্যও যা ভালো মনে করে, সেটি পছন্দ করা। হাদিসের শিক্ষা: একজন মুসলিমের উচিত তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন সমস্ত জিনিস ত্যাগ করা, যা অন্তর্ভুক্ত: হারাম, সন্দেহজনক বা অপছন্দনীয় (মাকরুহ) বিষয়। অতিরিক...