Posts

Showing posts from October, 2025

ইসলামী পরিভাষায়, হজ্জ হলো নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানসমূহে (কাবা, আরাফা, মুযদালিফা, মিনা) নির্দিষ্ট বিধানসমূহ অনুযায়ী ইহরাম বেঁধে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্ধারিত ইবাদত সম্পাদন করা।

Image
  হজ্জের সংজ্ঞা ইসলামী পরিভাষায়, হজ্জ হলো নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানসমূহে (কাবা, আরাফা, মুযদালিফা, মিনা) নির্দিষ্ট বিধানসমূহ অনুযায়ী ইহরাম বেঁধে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্ধারিত ইবাদত সম্পাদন করা। হজ্জের ফরজ (Obligatory Acts of Hajj) হজ্জে তিনটি মূল ফরজ আছে। এগুলোর যেকোনো একটি বাদ পড়লে হজ্জ সম্পূর্ণ হয় না এবং ক্ষতিপূরণস্বরূপ একটি কুরবানি দিতে হয়। ১. মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা নির্দিষ্ট সীমারেখা বা স্থানকে মিকাত বলা হয়। হজ্জ বা উমরাহ করতে হলে সেই মিকাত অতিক্রমের আগে ইহরাম বাঁধা ফরজ। কেউ যদি ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করে, তাহলে তাকে মিকাতে ফিরে গিয়ে ইহরাম বাঁধতে হবে। যদি না ফিরে আসে, তবে তাকে একটি কুরবানি (ফিদইয়া) দিতে হবে। ২. আরাফায় অবস্থান (Wuquf at Arafah) এটি হজ্জের প্রধান স্তম্ভ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল-হাজ্জু আরাফাহ” অর্থাৎ “হজ্জ মানেই আরাফা।” আরাফার ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা ফরজ। কেউ যদি দিনে বা রাতে অল্প সময়ের জন্যও সেখানে অবস্থান করে, তার হজ্জ সম্পন্ন হয়। ৩. তাওয়াফে ইফাদা (Main Tawaf after Arafah) ...

পাপীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণ

  পাপীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণ ১. সহানুভূতি ও নম্রতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো পাপীদের প্রতি ঘৃণা বা অহংকার দেখাননি। বরং তিনি তাদের বোঝাতে ও হৃদয় পরিবর্তন করতে ভালোবাসা ও যুক্তি ব্যবহার করতেন। যেমন, যে যুবক যিনা করার অনুমতি চেয়েছিল , নবী তাকে ধমক দেননি বরং ধৈর্যের সঙ্গে প্রশ্ন করে বোঝান — “তুমি কি তোমার মা, বোন, মেয়ে বা খালার জন্য এটা পছন্দ করবে?” এভাবে তিনি তরুণটির হৃদয় নরম করেন, তারপর তার জন্য দোয়া করেন — “হে আল্লাহ, তার পাপ ক্ষমা করো, তার হৃদয়কে পবিত্র করো এবং তার সতীত্ব রক্ষা করো।” ➤ ফলাফল: সে আর কখনও সেই পাপের দিকে ফিরে যায়নি। ২. ন্যায়বিচার ও শাস্তির সময়ও দয়া গামিদিয়া মহিলার ঘটনা দেখায়, নবী করীম (সা.) তওবা ও অনুতাপের দরজা খোলা রাখতেন । তিনি বারবার নারীটিকে ফিরিয়ে দেন, যেন সে গোপনে তওবা করে ফিরে আসে, কিন্তু যখন সে নিজে অনুতাপ করে দৃঢ় থাকে, তখনই শাস্তি কার্যকর হয়। এমনকি শাস্তি কার্যকর হওয়ার পরও নবী করীম (সা.) বলেন — “সে এমনভাবে তওবা করেছে যে, যদি তা মদীনার সত্তর জন লোকের মধ্যে ভাগ করে দেওয়...

“তাদের দিকে তাকাও যারা তোমার চেয়ে কম ভাগ্যবান…

Image
  “তোমার চেয়ে কম ভাগ্যবানদের দিকে তাকাও, আর তোমার চেয়ে বেশি ভাগ্যবানদের দিকে তাকিও না; কারণ এতে তুমি আল্লাহর নিয়ামতকে অবজ্ঞা করা থেকে বাঁচবে।” (বুখারি ও মুসলিম সম্মত, মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী) হাদিসের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এই হাদিসটি সংক্ষিপ্ত হলেও অত্যন্ত অর্থবহ। মানুষ এই দুনিয়ায় যত কষ্টেই থাকুক না কেন, সবসময় এমন কেউ থাকবে যে তার চেয়ে বেশি কষ্টে আছে। যদি মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে, তাহলে সে আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিয়ামতের কদর করতে পারবে। যদি কেউ নিজের চেয়ে ধনী বা সফল লোকদের দিকে তাকায়, তবে তার মনে অসন্তোষ, হিংসা ও অকৃতজ্ঞতা জন্ম নেবে। অন্যদিকে, যদি সে তার চেয়ে কম ভাগ্যবানদের দিকে তাকায়, তবে সে নিজের অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। হাদিস থেকে শিক্ষা ১. মানুষকে সবসময় তাদের দিকে তাকাতে হবে যারা দুনিয়াবি দিক থেকে কম ভাগ্যবান। এতে সে আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের কদর করতে পারবে। ২. যারা নিজেদের চেয়ে বেশি ধনী বা উন্নত লোকদের দিকে তাকায়, তারা প্রায়ই আল্লাহর দেয়া নিয়ামতগুলোকে ভুলে যায় এবং অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ে। ৩. কৃতজ্ঞতা একজন মুস...

সূরা আল-বালাদ: মানুষের জীবন সংগ্রাম ও আল্লাহর দান

Image
  সূরা আল-বালাদ: মানুষের জীবন সংগ্রাম ও আল্লাহর দান সূরা আল-বালাদ একটি মক্কায় অবতীর্ণ সূরা। আল্লাহ তাআলা এখানে বলেন, আমি এই শহর মক্কার শপথ করছি, আর তুমি হে মুহাম্মদ এই শহরের অধিবাসী। এবং পিতা ও যা তার থেকে জন্ম নিয়েছে তার শপথ করছি। আমি অবশ্যই মানুষকে কষ্ট ও পরিশ্রমের মধ্যে সৃষ্টি করেছি। সে কি মনে করে কেউ কখনও তার উপর ক্ষমতা রাখবে না? সে বলে, আমি অনেক সম্পদ ব্যয় করেছি। সে কি মনে করে কেউ তাকে দেখেনি? আমি কি তার জন্য দুটি চোখ, একটি জিহ্বা এবং দুটি ঠোঁট সৃষ্টি করিনি? আর আমি কি তাকে দুইটি পথ দেখাইনি? মক্কার মর্যাদা ও শপথের শিক্ষা আল্লাহ এই সূরায় মক্কার শপথ করেছেন কারণ এটি পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্থান। এটি সেই শহর যেখানে আল্লাহর ঘর কাবা অবস্থিত এবং যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছেন। আল্লাহর নামে শপথ করা বৈধ, কিন্তু অন্য কারো নামে শপথ করা জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করে, সে কুফরি করল অথবা শিরক করল। আল্লাহ বলেন, তুমি হে মুহাম্মদ এই শহরের বাসিন্দা। এর মানে হলো, তো...

সূরা আল ফজর এবং প্রশান্ত আত্মার আহ্বান

  সূরা আল ফজর এবং প্রশান্ত আত্মার আহ্বান আল্লাহ তাআলা যখন মানুষের ভুল ধারণা স্পষ্ট করেন, যখন তারা পরীক্ষার প্রকৃতি এবং কেন আল্লাহ কাউকে সম্পদ দেন বা কেড়ে নেন তা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তখন তিনি কিয়ামতের দিনের সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, যখন পৃথিবী সমান করে ফেলা হবে, চূর্ণ বিচূর্ণ ও বিধ্বস্ত করা হবে, তখন তোমার প্রতিপালক আসবেন এবং ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। সেদিন জাহান্নামকে সামনে আনা হবে। সেদিন মানুষ তার অতীত স্মরণ করবে, কিন্তু সেই স্মরণ তার জন্য কোনো উপকারে আসবে না। সে বলবে, হায় আমি যদি আমার জীবনের জন্য কিছু ভালো কাজ আগে পাঠাতাম। আল্লাহ বলেন, সেদিন কেউ আল্লাহর মতো শাস্তি দিতে পারবে না এবং কেউ তাঁর মতো কঠিনভাবে বাঁধতে পারবে না। আর সেই দিনের ভয়াবহতার মধ্যে সৎ আত্মাকে বলা হবে, হে প্রশান্ত আত্মা, তোমার প্রভুর দিকে ফিরে যাও, সন্তুষ্ট হয়ে এবং তোমার প্রভুও তোমাতে সন্তুষ্ট। আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো। এই আয়াতগুলো আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার সম্পদ, সম্মান বা প্রতিযোগিতা কিছুই চিরস্থায়ী নয়। একদিন এই পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হবে, পর্বতসমূহ ধসে পড়বে এবং পৃথ...

ইসলাম সম্পর্কে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত বিষয় অস্বীকার করলে কী হয়?

Image
ইসলাম সম্পর্কে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত বিষয় অস্বীকার করলে কী হয়? ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা হলো — আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ যা স্পষ্টভাবে ফরজ, হারাম বা সত্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন, একজন মুসলিমের জন্য তা বিশ্বাস করা ও মেনে চলা বাধ্যতামূলক । যদি কেউ সেসব বিষয় অস্বীকার করে, অথচ জানে যে সেগুলো ইসলামে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত, তাহলে তা ঈমানের উপর গুরুতর আঘাত হানে। 🔹 প্রশ্ন ১: “যে ব্যক্তি ইসলামী শিক্ষায় স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয় অস্বীকার করে, তার অবস্থা কী হবে?” উত্তর: ➡️ সে কাফির (অবিশ্বাসী) হয়ে যায়। ব্যাখ্যা: ইসলামে কিছু বিষয় এমন আছে যা কুরআন ও হাদীসে একেবারে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত — যেমন নামাজ, রোযা, যাকাত, হজ ফরজ; সুদ হারাম; মদ নিষিদ্ধ; আল্লাহ একমাত্র উপাস্য ইত্যাদি। যদি কেউ এসবের মধ্যে কোনো একটি বিষয়কে অস্বীকার করে (যেমন বলে, “নামাজ ফরজ নয়” বা “মদ হারাম নয়”), অথচ সে জানে ইসলাম এগুলোকে স্পষ্টভাবে ফরজ বা হারাম ঘোষণা করেছে — তাহলে সে ইসলামের সীমার বাইরে চলে যায়। 📖 দলিল: আল্লাহ বলেন: “যে কেউ ঈমানের পর আল্লাহকে অস্বীকার করে... তার উপর আল্লাহর ক্রোধ আছে এবং তার জন্য রয়েছে ...

তাওয়াসসুলের ভাষাগত ও শরয়ী অর্থ | Sunnah Seekers

Image
 তাওয়াসসুল (التوسل) — অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উপায় — ইসলামী আকীদার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি সঠিকভাবে বোঝা অত্যন্ত প্রয়োজন, কারণ সঠিক তাওয়াসসুল ঈমানের অংশ, আর ভ্রান্ত তাওয়াসসুল মানুষকে শিরক বা বিদআতে ফেলতে পারে। নিচে এর বিশদ ব্যাখ্যা ও বিভাগসমূহ উপস্থাপন করা হলো। তাওয়াসসুলের ভাষাগত ও শরয়ী অর্থ ভাষাগত অর্থ: তাওয়াসসুল এসেছে “وسيلة” (ওয়াসিলাহ) শব্দ থেকে, যার অর্থ হলো এমন কোনো মাধ্যম বা উপায়, যার মাধ্যমে কেউ কোনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য বা ব্যক্তির নিকটবর্তী হতে পারে। শরয়ী (ইসলামী) অর্থ: আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে এমন আমল বা উপায় অবলম্বন করা যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা অনুমোদিত। কুরআনের দলিলসমূহ ১️⃣ সূরা আল-মায়িদাহ (৫:৩৫) "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর নৈকট্য অর্জনের উপায় (ওসীলা) অনুসন্ধান কর, এবং তাঁর পথে জিহাদ কর, যাতে তোমরা সফল হও।" 🔹 তাফসির: কাতাদাহ (রহ.) বলেন — ওসীলা অর্থাৎ এমন আমল করা যা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের উপায়। ২️⃣ সূরা আল-ইসরা (১৭:৫৭) "যাদের তারা ডাকে (মিথ্যা উপাস্য মনে করে), তারা...

বাজার ও ক্রয়-বিক্রয়ের ইসলামী শিষ্টাচার

Image
  বাজার ও ক্রয়-বিক্রয়ের ইসলামী শিষ্টাচার Sunnah Seeker টিম থেকে ইসলাম শুধুমাত্র ইবাদত-বন্দেগির দাওয়াতই দেয় না—বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। কেনা-বেচা, লেনদেন, বাজারে চলাফেরা—সবকিছুতেই ইসলাম চায় শান্তি, সুবিচার ও নৈতিকতা। চলুন দেখে নিই, একজন মুসলিম হিসেবে বাজারে আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত। ✅ ১. বাজারে সুন্দর আচরণ বজায় রাখা রাসূল ﷺ বলেন: "বাজারের ঝামেলা থেকে সাবধান!" – সহিহ মুসলিম 🔸 অর্থাৎ ঝগড়া, উচ্চস্বরে তর্ক, অসদাচরণ পরিহার করা। 🔸 অহংকার, রুক্ষতা ও স্বার্থপরতা ইসলামি আচরণের পরিপন্থী। ✅ ২. দৃষ্টি সংযত রাখা আন-নূর ২৪:৩০ : "মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে…" 🔸 হারাম কিছু দেখা থেকে বিরত থাকা বাজারে চলাফেরার অন্যতম শিষ্টাচার। ✅ ৩. অন্যের ক্ষতি থেকে বিরত থাকা রাসূল ﷺ বলেন: "বাজারে কেউ তীর নিয়ে গেলে সে যেন তার ডগা ধরে রাখে যাতে কাউকে আঘাত না করে।" – সহিহ হাদিস 🔸 আজকের দিনে এটার প্রয়োগ হলো — ছুরি, কাঁচি বা ভারী সামগ্রী বহনে সতর্ক থাকা। ✅ ৪. লেনদেনে আল্লাহর স্মরণ ভুলে না যাওয়া আন-নূর ২৪:...

সমবেদনা জানানোর শিষ্টাচার — ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে

Image
  সমবেদনা জানানোর শিষ্টাচার — ইসলাম কী বলে? লিখেছেন: Sunnah Seeker Team মানুষের জীবন সুখ-দুঃখের সমন্বয়ে গঠিত। কোনো মৃত্যু, বিপদ বা কষ্টের সময় একজন মুসলিম কীভাবে নিজে ধৈর্য ধারণ করবে এবং অপর মুসলিম ভাই/বোনকে সান্ত্বনা দিবে — ইসলাম তার একটি নিখুঁত রূপরেখা দিয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং অবশ্যই আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব।” — [সূরা আল-বাকারা: ২:১৫৬] বিপদের সময় ধৈর্যের পুরস্কার উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “কোন মুসলিম বিপদে পড়ে এই দোআ করে: ‘إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَاخْلُفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا’ (হে আল্লাহ! আমার বিপদের বিনিময়ে আমায় পুরস্কৃত করো এবং এর চেয়ে ভালো কিছু দান করো), তাহলে আল্লাহ তাকে তার বিপদের পরিবর্তে আরও উত্তম কিছু দান করেন।” — [সহীহ মুসলিম] উম্মে সালামা নিজেও এ দোআ করেছিলেন এবং আল্লাহ তাকে স্বামী হিসেবে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দান করেছিলেন। সমবেদনা জানাতে এসে করণীয় ✅ শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া শোকাহত ব্যক্তি ছোট বা বড় — সবাইকে সান্ত্বনা দেওয়া মুস্তাহাব। তবে এমন কারো ...

অসুস্থদের দেখতে যাওয়ার ইসলামিক আদব ও ফজিলত

  অসুস্থদের দেখতে যাওয়ার ইসলামিক আদব ও ফজিলত ইসলাম আমাদেরকে অসুস্থদের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব পালন এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করার অনুপ্রেরণা দেয়। অসুস্থদের দেখাশোনা করা শুধু সামাজিক দায়িত্বই নয়, এটি এক মহান ইবাদত যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর রিজা অর্জন করতে পারি। নবী করীম (সা.) নিজে অসুস্থদের কাছে গিয়ে তাদের সান্ত্বনা দিতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন। অসুস্থদের দেখতে যাওয়ার ফজিলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে মুসলিম তার অসুস্থ ভাইকে দেখতে যায়, সে যতক্ষণ পর্যন্ত ফিরে না আসে জান্নাতের বাগানে থাকে।” (মুসলিম) আরও বর্ণিত আছে, যখন কেউ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায়, তখন আকাশ থেকে ফেরেশতারা ডাকে: “তোমার পদচারণায় বরকত হোক, তোমার জন্য বরকত হোক এবং তুমি জান্নাতে পৌঁছাও।” (তিরমিযী) এগুলি থেকে স্পষ্ট হয় যে অসুস্থদের দেখতে যাওয়া কতটা বরকতময় এবং সাওয়াবের কাজ। অসুস্থদের দেখতে যাওয়ার আদব ১. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যেতে হবে: কোনো কাজই আল্লাহর রিজা ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অসুস্থদের দেখাশোনা করতে গেলে আন্তরিকতা জরুরি। ২. উপযুক্ত সময়ে দেখা করতে হবে: অ...

উপদেশ দেওয়া এবং গ্রহণের শিষ্টাচার: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

Image
  উপদেশ দেওয়া এবং গ্রহণের শিষ্টাচার: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ভুল করা মানুষের স্বাভাবিক একটি অংশ, যেই ব্যক্তি হোক—সাধারণ বা নেতা। ইসলামে ভুল থেকে ফিরে আসা এবং পরস্পরের প্রতি আন্তরিক উপদেশ দেওয়া বা নসীহাত দেয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। নবী করীম (সা.) বলেছেন, “ধর্ম হল নসীহাত (আন্তরিক উপদেশ)।” এই উপদেশ আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি, মুসলিম নেতাদের এবং সাধারণ মানুষের প্রতি হওয়া উচিত। উপদেশদাতার শিষ্টাচার: ১. ভুল নিশ্চিত হওয়া: উপদেশ দেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে ভুল সত্যিই হয়েছে কি না। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) এর উদাহরণ অনুসরণ করতে হবে, যেখানে তিনি নিজের কথা সংশোধন করেছেন। ২. নিজের আচরণ ঠিক রাখা: যিনি উপদেশ দেন, তাকে নিজের কাজেও পরিপূর্ণ হতে হবে। যেমন নবী শুয়াইব (আ.) বলেছেন, তিনি নিজের জন্য যা নিষেধ করেছেন, তাতে অন্যদের থেকে আলাদা হতে চান না। ৩. আন্তরিকতা: উপদেশ দিতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া। ৪. জ্ঞানভিত্তিক পরামর্শ: উপদেশ দেওয়ার সময় জ্ঞানভিত্তিক হওয়া উচিত এবং যাকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে তার মঙ্গল ভাবা জরুরি। ৫. সত্য ও সৎ থাকা: পরামর্শ দেওয়ার সময় মিথ্যা বা তোষামো...

হজ্জের অপরিহার্য অংশ ও ইহরাম অবস্থার বিধিনিষেধ: একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড

Image
  হজ্জের অপরিহার্য অংশ ও ইহরাম অবস্থার বিধিনিষেধ: একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড হজ্জ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। এটি একটি মহান ইবাদত যা মুসলমানের জীবনে একবার আদায় করা ফরজ, যদি সে তা সামর্থ্য রাখে। হজ্জ শুধু শরীরচর্চার একটি রূপ নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের এক অনন্য শিক্ষা। এই পথ চলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যেগুলো জানা ও মানা আবশ্যক।  এই লেখায় আমরা হজ্জের অপরিহার্য চারটি অংশ, ইহরাম অবস্থায় করণীয় ও বর্জনীয়, এবং ইহরাম ভঙ্গের ফলে ফিদিয়ার বিধান বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। হজ্জের চারটি অপরিহার্য অংশ ১. ইহরাম বাঁধা হজ্জ বা ওমরাহর ইবাদতের জন্য নিয়ত করে ইহরামে প্রবেশ করাকে ইহরাম বাঁধা বলা হয়। এটি হজ্জ শুরুর প্রথম পদক্ষেপ এবং এর আগে হজ্জের কোনো কাজ গ্রহণযোগ্য নয়। ২. আরাফায় অবস্থান ৯ জিলহজ্জ, দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজ্জের প্রধানতম অংশ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “হজ্জ হল আরাফা।” (তিরমিযি) ৩. তাওয়াফে ইফাদা কুরবানির পর কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করা। এটি হজ্জ তাওয়াফ, যা হজ্জের অন্যতম রুকন। ৪. সাঈ করা সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার চলা...

হজ্জ হলো নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে নির্দিষ্ট কার্যাবলী পালন করার উদ্দেশ্যে ইহরাম অবস্থায় কাবা শরীফে উপস্থিত হওয়া।

  হজ সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখুন ➡ সংজ্ঞা: হজ্জ হলো নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে নির্দিষ্ট কার্যাবলী পালন করার উদ্দেশ্যে ইহরাম অবস্থায় কাবা শরীফে উপস্থিত হওয়া। ➡ প্রমাণ: আল্লাহ বলেন: “...এবং মানুষের উপর আল্লাহর জন্য হজ করা ফরজ, যারা সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।” [সূরা আলে ইমরান ৩:৯৭] ➡ শর্তাবলী: ১. ইসলাম গ্রহণ ২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ৩. সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া ৪. শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা ৫. নিরাপদ ভ্রমণের সুযোগ থাকা ৬. (নারীদের জন্য) মাহরাম থাকা ➡ হজ কখন করতে হয়: হজ্জ প্রতি বছর হিজরি জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয়। ২. হজের মীকাতগুলোর তালিকা ও মানচিত্র (সংক্ষেপে) ক্র. মীকাতের নাম বর্তমান নাম দূরত্ব (প্রায়) কার জন্য ১ ذو الحُليفة (ধুল-হুলাইফা) Abyar ‘Ali ৯ কিমি (মদীনা থেকে), ৪৫০ কিমি (মক্কা থেকে) মদীনার লোকদের জন্য ২ الجُحفة (আল-জুহফাহ) Rabigh ১৮০ কিমি শামের লোকদের জন্য ৩ يَلَملَم (ইয়ালামলাম) As-Sa‘diyyah ১২০ কিমি ইয়েমেনের লোকদের জন্য ৪ قَرْنُ ٱلْمَنَازِل (কার্ন আল-মানাজিল) As-Sail Al-Kabeer ৭৫ কিমি নজদ ও তায়েফবাসীদের জন্য...

তোমরা কি জানো গীবত কী?” তারা বলল: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: “তোমার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা যা সে অপছন্দ করে।” বলা হলো: যদি সে সত্যিই এমন হয়, তাহলে? তিনি বললেন: “তুমি যদি সত্য বলো, তবে তুমি তাকে গীবত করেছ; আর যদি তা মিথ্যা হয়, তবে তুমি তাকে অপবাদ দিয়েছ।”

Image
  আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা কি জানো গীবত কী?” তারা বলল: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: “তোমার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা যা সে অপছন্দ করে।” বলা হলো: যদি সে সত্যিই এমন হয়, তাহলে? তিনি বললেন: “তুমি যদি সত্য বলো, তবে তুমি তাকে গীবত করেছ; আর যদি তা মিথ্যা হয়, তবে তুমি তাকে অপবাদ দিয়েছ।” হাদিসের ব্যাখ্যা: 🔹 গীবতের সংজ্ঞা: ইসলামী পরিভাষায় গীবত হলো— কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে এমন কিছু বলা, যা সে পছন্দ করে না, তা সত্য হোক বা না হোক। “গীবত” শব্দটি এসেছে “আল-গাইব” (অদৃশ্য) থেকে, যার অর্থ হলো অনুপস্থিত থাকা। যেহেতু যার সম্পর্কে বলা হয় সে উপস্থিত থাকে না, তাই এটিকে গীবত বলা হয়। 🔹 অপবাদ (বুহতান): যদি কারো সম্পর্কে মিথ্যা কিছু বলা হয়, তবে সেটিকে “বুহতান” বলা হয় — যা আরও ভয়ানক গুনাহ। আল্লাহ বলেন: “যারা মুমিন পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয় এমন অপরাধে যার জন্য তারা দায়ী নয়, তারা তো অপবাদ ও স্পষ্ট গোনাহ বহন করে।” — [সূরা আল-আহযাব: ৩৩:৫৮] গীবতের বিভিন্ন রূপ: ইমাম আন-নওয়াবী (রহ.) বলেন: গীবত শু...