Posts

সূরা আশ-শারহ: কষ্টের মাঝেই লুকিয়ে থাকা স্বস্তির মহাসংবাদ

  সূরা আশ-শারহ: কষ্টের মাঝেই লুকিয়ে থাকা স্বস্তির মহাসংবাদ কুরআনের ছোট কিন্তু অত্যন্ত গভীর অর্থবহ সূরাগুলোর মধ্যে সূরা আশ-শারহ (আলাম নাশরাহ) একটি অনন্য সূরা। এটি একটি মক্কী সূরা , অর্থাৎ হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ, এমন এক সময় যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর অনুসারীরা চরম কষ্ট, নির্যাতন ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সূরার প্রতিটি আয়াত নবী ﷺ-কে সান্ত্বনা দেয়, শক্তি জোগায় এবং একই সঙ্গে সমগ্র উম্মাহকে আশার আলো দেখায়। সূরা আশ-শারহের আয়াত ও অর্থ (সংক্ষেপে) আল্লাহ তাআলা বলেন: “আমি কি তোমার হৃদয় প্রশস্ত করে দিইনি? আমি কি তোমার উপর থেকে তোমার বোঝা সরিয়ে দিইনি— যা তোমার পিঠকে ভারী করে তুলেছিল? আর আমি কি তোমার জন্য তোমার মর্যাদা উচ্চ করে দিইনি? নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। অতএব যখন তুমি অবসর পাও, তখন ইবাদতে মনোনিবেশ করো। আর তোমার রবের দিকেই তোমার আকাঙ্ক্ষা নিবদ্ধ করো।” (সূরা আশ-শারহ ৯৪:১–৮) সূরার ব্যাখ্যা ও গভীর শিক্ষা ১. হৃদয় প্রশস্ত করে দেওয়া – আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ “আমি কি তোমার হৃদয় প্রশস্ত করে দিইনি?” এর অর্থ—আল্লাহ রাসূল ...

বিদআত (উদ্ভাবন): দ্বীনের জন্য নীরব কিন্তু ভয়ংকর হুমকি

Image
বিদআত (উদ্ভাবন): দ্বীনের জন্য নীরব কিন্তু ভয়ংকর হুমকি ইসলামে বিদআত (উদ্ভাবন) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। কারণ বিদআতের আলোচনা মূলত কুরআন ও সুন্নাহকে সংরক্ষণ করার জন্যই করা হয়। আজকের বাস্তবতায় আমরা দেখতে পাই—অনেক মুসলিম অজান্তেই এমন সব বিশ্বাস ও আমল গ্রহণ করছেন, যেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই কুরআন ও সহিহ সুন্নাহতে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় বিদআতকেই “সুন্নাহ” বলে প্রচার করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যারা বিদআত চালু করে, তাদের উদ্দেশ্য মন্দ নয়। কিন্তু সমস্যা হলো—ভালো নিয়ত থাকলেই কোনো কাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না, যদি তা রাসূল ﷺ-এর পথের বিরুদ্ধে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: “বলুন, আমি কি তোমাদেরকে কর্মের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের কথা জানাবো? তারা হলো তারা—যাদের দুনিয়ার জীবনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, অথচ তারা মনে করত যে তারা ভালো কাজ করছে।” (সূরা আল-কাহফ ১৮:১০৩–১০৪) বিদআতের সংজ্ঞা ভাষাগত অর্থ আরবি ভাষায় বিদআত বলতে বোঝায়—কোনো কিছুকে নতুনভাবে সৃষ্টি করা, যা আগে ছিল না। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: “তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা (বাদী’)।” (সূরা আল-বাকারা ২:১১৭) অর্থাৎ, পূর্বে...

ভালো ঘর নয়—ঘরের মানুষের ঈমান, আখলাক ও ভালোবাসাই আসল সুখ | Sunnah Seekers

 ভালো ঘর নয়—ঘরের মানুষের ঈমান, আখলাক ও ভালোবাসাই আসল সুখ | Sunnah Seekers আমরা অনেক সময় ভাবি, বড় ঘর, বিলাসী জীবন, দামী আসবাব—এসব থাকলেই সুখ পাওয়া যায়। কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায়: সুখ কোনো স্থাপনায় নয়, মানুষের ঈমান ও আচরণে। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন— “যে নেক আমল করে—পুরুষ হোক বা নারী—আমি তাকে পবিত্র ও সুন্দর জীবন দান করবো।” (সূরা আন-নাহল 16:97) অর্থাৎ সত্যিকারের শান্তি আসে নেক আমল, ভালো চরিত্র ও ঈমানের ফল হিসেবে। ঘরের মানুষের আচরণ কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? ১. ভালো আখলাক রহমত ডেকে আনে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যার চরিত্র সর্বোত্তম।” (বুখারি) ভালো আখলাক ঘরকে জান্নাতের মতো প্রশান্ত করে। ২. দয়া ও কোমলতা ঘরে বরকত আনে নবী ﷺ বলেন— “আল্লাহ কোমল; তিনি কোমলতাকে ভালোবাসেন।” (মুসলিম) কঠোরতা ঘরকে ভেঙে দেয়, আর কোমলতা ঘরকে শক্ত করে। ৩. ধৈর্য ও ক্ষমা সুখী পরিবার গড়ে কুরআনে আছে— “তোমরা ক্ষমা করো ও উপেক্ষা করো।” (সূরা নূর 24:22) দাম্পত্য এবং পারিবারিক শান্তির মূল চাবি—ক্ষমা ও ধৈর্য। ঘরে সুখ চাইলে সুন্নাহ অনুযায়ী করণীয় ১. সুন্দরভাবে কথা বলা নবী ﷺ বলেছ...

সূরা আল-লাইল (আয়াত ১২–২১): ব্যাখ্যা, শিক্ষা ও বিশ্লেষণ

  সূরা আল-লাইল (আয়াত ১২–২১): ব্যাখ্যা, শিক্ষা ও বিশ্লেষণ আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয়ই হিদায়াত আমাদেরই দায়িত্ব। আর নিশ্চয়ই পরকাল ও এই প্রথম জীবন—উভয়ই আমাদের অধীন। তাই আমি তোমাদেরকে প্রজ্বলিত আগুন সম্পর্কে সতর্ক করেছি। সেখানে দগ্ধ হবে না কেউ, কেবল সেই হতভাগ্য ব্যক্তি ছাড়া, যে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি তা থেকে দূরে রাখা হবে—যে তার সম্পদ ব্যয় করে নিজেকে পবিত্র করার জন্য, এবং কারো অনুগ্রহের প্রতিদান হিসেবে নয়; সে শুধু তার পরম প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দান করে। আর অবশ্যই সে সন্তুষ্ট হবে।” [সূরা আল-লাইল ৯২:১২–২১] আয়াতের সার্বিক ব্যাখ্যা ১. “নিশ্চয়ই হিদায়াত আমাদেরই দায়িত্ব” এখানে আল্লাহ ঘোষণা করছেন যে সত্য ও মিথ্যার পথ দেখানো তাঁর দায়িত্ব। তিনি ওহীর মাধ্যমে হালাল–হারাম, ঈমান–কুফর, সৎ–অসৎ সবকিছু স্পষ্ট করে দেন। মানুষ নিজে যুক্তি দিয়ে সম্পূর্ণ সঠিক পথ বের করতে সক্ষম নয়; তাই আল্লাহই তাকে পথ দেখান। ২. “এবং পরকাল ও প্রথম জীবন আমাদেরই” এই দুনিয়ার মালিকও আল্লাহ, এবং পরকাল—যেখানে চূড়ান্ত বিচার হবে—তাও তাঁরই। এতে দ...

আধুনিক নাস্তিকতার যুক্তি ও তার খণ্ডন — অ্যান্টনি ফ্লুর দৃষ্টিতে একটি বিশ্লেষণ

Image
  আধুনিক নাস্তিকতার যুক্তি ও তার খণ্ডন — অ্যান্টনি ফ্লুর দৃষ্টিতে একটি বিশ্লেষণ আধুনিক যুগে নাস্তিকতা এমন একটি বৌদ্ধিক প্রবাহ, যা ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে এবং এটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য বিভিন্ন দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি সামনে আনে। তবে এই যুক্তিগুলোর বেশিরভাগই আংশিক, অসম্পূর্ণ বা ভুল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে—এমনটাই মনে করেন যুক্তিবাদী দার্শনিক অ্যান্টনি ফ্লু, যিনি জীবনের দীর্ঘ সময় নাস্তিকতার অন্যতম প্রধান মুখপাত্র ছিলেন, পরে ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। এই লেখায় তাঁর আলোচিত দুটি বিখ্যাত যুক্তি, নাস্তিকদের মূল দাবিগুলো এবং ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে তার জবাব তুলে ধরা হলো। প্রথম যুক্তি: ঈশ্বরকে কে সৃষ্টি করেছেন? নাস্তিকদের অন্যতম প্রচলিত প্রশ্ন হলো: "যদি প্রতিটি সৃষ্ট জিনিসের একজন স্রষ্টা থাকে, তাহলে ঈশ্বরকে কে সৃষ্টি করেছে?" এই প্রশ্নটি মূলত ভুল কারণ: এটি অসীম পশ্চাদপসরণের দিকে নিয়ে যায়। যদি ঈশ্বরকেও সৃষ্ট বলা হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—তাঁকে কে সৃষ্টি করল? তারপর সেই স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল? এইভাবে অসীম পর্যন্ত চলতে থাকবে, যা যুক্তির পরিপন্থী। সঠিক দৃষ্টিভঙ...

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নারীদের প্রতি যত্ন এবং উদারতা

   নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নারীদের প্রতি যত্ন এবং উদারতা পাঠ্য ও হাদিসগুলো থেকে দেখা যায় যে নবী করীম (সাঃ) নারীদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল এবং সহানুভূতিশীল ছিলেন। বিশেষভাবে: অনুপস্থিত নারীদের প্রতি খোঁজখবর নেওয়া: তিনি হজ্জ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত হতে পারলেন না, তাদের কারণে দুঃখিত ছিলেন এবং তাদের অবস্থা জানতে চাইতেন। উদাহরণ: উম্মে সিনান আল-আনসারীয়ার সাথে হজ্জ সম্পর্কিত ঘটনা। সহানুভূতি ও কষ্ট বোঝা: শিশুর কান্না বা অসুস্থতার কারণে নারীর কষ্ট বোঝার জন্য তিনি তার সালাত সংক্ষেপিত করেছিলেন। অপেক্ষা ও সহায়তা প্রদান: নারী যে দূর থেকে পানি আনছিল, তার জন্য তিনি সরাসরি সাহায্য এবং নিরাপদ ব্যবস্থা করেছিলেন, এমনকি তার সন্তানদেরও খাদ্য যোগান দিয়েছিলেন। সদয় সমালোচনা: কোনো ভুলের জন্য নারীদের নরমভাবে তিরস্কার করতেন। উদাহরণ: একজন মহিলা কবরের পাশে কাঁদছিল, তখন তিনি তাকে সহানুভূতিশীলভাবে ধৈর্য ধরতে বললেন। সারসংক্ষেপ: নবী (সাঃ) নারীদের প্রতি সংবেদনশীল, সহানুভূতিশীল, স্নেহশীল এবং ন্যায়পরায়ণ ছিলেন। ২. একজন পুরুষের সাথে একজন মহিলার ক...

প্রকৃত ঈমানের চাবিকাঠি: “তোমাদের কেউ প্রকৃত ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে”

 প্রকৃত ঈমানের চাবিকাঠি: “তোমাদের কেউ প্রকৃত ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে” নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই মহান বাণীটি ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির একটিকে প্রকাশ করে। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদিস আমাদেরকে শেখায় যে, প্রকৃত বিশ্বাস শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিকতা বা নিজস্ব নৈতিকতার সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন সত্যিকারের মুসলিমের হৃদয় সর্বদা অন্যদের কল্যাণের প্রতি উদার ও সংবেদনশীল থাকে। হাদিসের মূল বার্তা “তোমাদের কেউ প্রকৃত ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” এখানে ভাই বলতে কেবল পারিবারিক সম্পর্ক নয়, বরং সকল মুসলিম ভাই এবং মানবতা বোঝায়। যা নিজের জন্য ভালো লাগে , তা কেবল সম্পদ বা সুবিধা নয়, বরং সত্য, ন্যায়, নিরাপত্তা, এবং মানসিক শান্তি। অর্থাৎ, ঈমান সম্পূর্ণ হয় যখন আমরা আমাদের হৃদয়ে ঈমানের প্রতিফলন ঘটাই এবং সেই প্রতিফলন অন্যদের কল্যাণেও প্রয়োগ করি। সমাজে হাদিসের প্রয়োগ এই হাদিস যদি বাস্তব...