অন্যায় কাজ দেখা এবং তা প্রতিহত করার তত্ত্ব

 অন্যায় কাজ দেখা এবং তা প্রতিহত করার তত্ত্ব

পবিত্র হাদিসে Abu Sa'id Al-Khudri (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে কোনো অন্যায় কাজ দেখে, সে যেন তা হাতে প্রতিহত করে; যদি তা না পারে, তবে জিহ্বা দিয়ে (কথা বলে); আর যদি তা না পারে, তবে হৃদয় দিয়ে ঘৃণা করে। এবং হৃদয় দিয়ে ঘৃণা করা হল ঈমানের দুর্বলতম স্তর।”


 

হাদিসের স্তরসমূহ

১. হাতে প্রতিহত করা

  • সরাসরি পদক্ষেপের মাধ্যমে অন্যায় কাজ বন্ধ করা।

  • উদাহরণ: কেউ অন্যায় করছে দেখলে তাকে থামানো বা সংশোধনের ব্যবস্থা করা।

২. জিহ্বা দিয়ে প্রতিহত করা

  • মৌখিক নিন্দা, সঠিক পরামর্শ বা সতর্কতা দেওয়া।

  • প্রজ্ঞা এবং সৌজন্য বজায় রাখা অপরিহার্য।

৩. হৃদয় দিয়ে প্রতিহত করা

  • অন্তরে অন্যায়ের প্রতি ঘৃণা করা।

  • এটি সর্বনিম্ন স্তরের প্রতিহতকরণ, তবে যারা হাতে বা জিহ্বা দিয়ে তা করতে পারে না তাদের জন্য এটি বৈধ।


হাদিসের শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ

  • ভুল কাজের সনাক্তকরণ:
    শুধুমাত্র এমন কর্মকে অন্যায় বলা যায়, যা আলেমদের ঐক্যমত অনুযায়ী স্পষ্টভাবে ভুল। মতবিরোধ থাকলে ব্যক্তিগত বিচার করা যাবে না।

  • নিয়মিত সতর্কতা:
    যে ব্যক্তি অন্যায় প্রতিহত করতে চায়, তার উদ্দেশ্য মানুষকে সঠিক পথে আনা এবং আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিশোধ বা ব্যক্তিগত ক্ষতি উদ্দেশ্য হতে পারে না।

  • সমাজে প্রভাব:
    সৎকাজের আদেশ না দেওয়া এবং অন্যায়ের নিষেধ না করা সমাজকে বিপথগামী করে, যা আল্লাহর শাস্তির কারণ হতে পারে।

  • হৃদয়ের গুরুত্ব:
    যখন হাত বা জিহ্বা দিয়ে কিছু করা সম্ভব নয়, তখন অন্তরে ঘৃণা করা ও সংকল্প করা জরুরি। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি সুযোগ দিলে হাত বা জিহ্বা দিয়ে প্রতিহত করতে হবে।


কোরআনের সমর্থন

  • আল্লাহ বলেন:

“তোমরা মানবজাতির জন্য সেরা জাতি, তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখো এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনো।”
Surah Al-Imran (৩:১১০)

  • অন্যায়ে অবহেলা করাকে অতীত জাতিগুলোর পতনের কারণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

Surah Al-Ma'idah (৫:৭৮-৭৯)


উপসংহার

এই হাদিস আমাদের শেখায়:

  • সমাজে অন্যায় প্রতিহত করা মুসলমানদের দায়িত্ব।

  • প্রতিহত করার তিনটি স্তর: হাতে, জিহ্বা দিয়ে, হৃদয় দিয়ে

  • ঈমানের সত্যতা কেবল অন্তরে নয়, বাস্তবে প্রতিফলিত হতে হবে।

  • একজন মুসলিম সৎকাজ আদেশ এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে।


Comments

Popular posts from this blog

ইফতার প্রস্তুতি: ইফতারের আগে কী করা উচিত?

লাইলাতুল কদর বেজোড় রাতে খোঁজার নির্দেশ