ভালো ঘর নয়—ঘরের মানুষের ঈমান, আখলাক ও ভালোবাসাই আসল সুখ | Sunnah Seekers

 ভালো ঘর নয়—ঘরের মানুষের ঈমান, আখলাক ও ভালোবাসাই আসল সুখ | Sunnah Seekers

আমরা অনেক সময় ভাবি, বড় ঘর, বিলাসী জীবন, দামী আসবাব—এসব থাকলেই সুখ পাওয়া যায়।
কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায়: সুখ কোনো স্থাপনায় নয়, মানুষের ঈমান ও আচরণে।

আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন—
“যে নেক আমল করে—পুরুষ হোক বা নারী—আমি তাকে পবিত্র ও সুন্দর জীবন দান করবো।”
(সূরা আন-নাহল 16:97)

অর্থাৎ সত্যিকারের শান্তি আসে নেক আমল, ভালো চরিত্র ও ঈমানের ফল হিসেবে।

ঘরের মানুষের আচরণ কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

১. ভালো আখলাক রহমত ডেকে আনে
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যার চরিত্র সর্বোত্তম।”
(বুখারি)
ভালো আখলাক ঘরকে জান্নাতের মতো প্রশান্ত করে।

২. দয়া ও কোমলতা ঘরে বরকত আনে
নবী ﷺ বলেন—
“আল্লাহ কোমল; তিনি কোমলতাকে ভালোবাসেন।”
(মুসলিম)
কঠোরতা ঘরকে ভেঙে দেয়, আর কোমলতা ঘরকে শক্ত করে।

৩. ধৈর্য ও ক্ষমা সুখী পরিবার গড়ে
কুরআনে আছে—
“তোমরা ক্ষমা করো ও উপেক্ষা করো।”
(সূরা নূর 24:22)
দাম্পত্য এবং পারিবারিক শান্তির মূল চাবি—ক্ষমা ও ধৈর্য।

ঘরে সুখ চাইলে সুন্নাহ অনুযায়ী করণীয়

১. সুন্দরভাবে কথা বলা
নবী ﷺ বলেছেন—
“একটি ভালো কথা সদকা।”

২. সালাম প্রচলন করা
সালাম শান্তি আনে, সম্পর্ক মজবুত করে।

৩. ঘরে কুরআন তিলাওয়াত করা
আল্লাহর কথা ঘরকে নূর ও সুরক্ষায় ভরে দেয়।

৪. নামাজে পরিবারকে এক করা
জামাতে বা একসাথে নামাজ পড়া পরিবারে একতা সৃষ্টি করে।

৫. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
নবী ﷺ বলেন—
“শক্তিশালী সেই ব্যক্তি নয় যে কুস্তিতে জিতে; শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।”
(বুখারি)

শেষ কথা

সুন্দর ঘর নয়—ঘরের মানুষের ঈমান, আখলাক, ধৈর্য, ভালোবাসা ও দয়ার হাতেই প্রকৃত সুখ।

যে ঘরে ইসলামের আলো থাকে—সেই ঘরই প্রকৃত সুখের ঘর, বরকতময় পরিবার, আর শান্তির আশ্রয়স্থল।

Comments

Popular posts from this blog

ইফতার প্রস্তুতি: ইফতারের আগে কী করা উচিত?

লাইলাতুল কদর বেজোড় রাতে খোঁজার নির্দেশ