সূরা আল-লাইল (আয়াত ১২–২১): ব্যাখ্যা, শিক্ষা ও বিশ্লেষণ

 

সূরা আল-লাইল (আয়াত ১২–২১): ব্যাখ্যা, শিক্ষা ও বিশ্লেষণ

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“নিশ্চয়ই হিদায়াত আমাদেরই দায়িত্ব। আর নিশ্চয়ই পরকাল ও এই প্রথম জীবন—উভয়ই আমাদের অধীন। তাই আমি তোমাদেরকে প্রজ্বলিত আগুন সম্পর্কে সতর্ক করেছি। সেখানে দগ্ধ হবে না কেউ, কেবল সেই হতভাগ্য ব্যক্তি ছাড়া, যে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি তা থেকে দূরে রাখা হবে—যে তার সম্পদ ব্যয় করে নিজেকে পবিত্র করার জন্য, এবং কারো অনুগ্রহের প্রতিদান হিসেবে নয়; সে শুধু তার পরম প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দান করে। আর অবশ্যই সে সন্তুষ্ট হবে।”
[সূরা আল-লাইল ৯২:১২–২১]


আয়াতের সার্বিক ব্যাখ্যা

১. “নিশ্চয়ই হিদায়াত আমাদেরই দায়িত্ব”

এখানে আল্লাহ ঘোষণা করছেন যে সত্য ও মিথ্যার পথ দেখানো তাঁর দায়িত্ব।
তিনি ওহীর মাধ্যমে হালাল–হারাম, ঈমান–কুফর, সৎ–অসৎ সবকিছু স্পষ্ট করে দেন।
মানুষ নিজে যুক্তি দিয়ে সম্পূর্ণ সঠিক পথ বের করতে সক্ষম নয়; তাই আল্লাহই তাকে পথ দেখান।

২. “এবং পরকাল ও প্রথম জীবন আমাদেরই”

এই দুনিয়ার মালিকও আল্লাহ, এবং পরকাল—যেখানে চূড়ান্ত বিচার হবে—তাও তাঁরই।
এতে দুটি শিক্ষা রয়েছে:

  • পরকালের গুরুত্ব পৃথিবীর চেয়ে বেশি।

  • তাঁর হিদায়াত গ্রহণ না করলে কেউ তাঁর হাত থেকে পালাতে পারবে না।

৩. প্রজ্বলিত আগুনের সতর্কবার্তা

জাহান্নামের আগুন তীব্র, গভীর ও ভয়াবহ।
নবী ﷺ বলেছেন:
“জাহান্নামে সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির পায়ের নিচে দুটি অঙ্গার রাখা হবে, যার তাপে তার মস্তিষ্ক ফুটতে থাকবে।”
(বুখারী)

৪. কারা জাহান্নামে যাবে?

এখানে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • যে কুফর করে

  • সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়

  • আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে

একে বলা হয়েছে “الأشقى” — সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি।

৫. কারা বাঁচবে?

যে ব্যক্তি:

  • আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে

  • সম্পদ ব্যয় করে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করে

  • কাউকে খুশি করার জন্য নয়, কোনো লাভের প্রত্যাশায় নয়
    শুধু তার প্রতিপালকের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে।

৬. “আর সে সন্তুষ্ট হবে”

যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিঃস্বার্থভাবে দান করে, আল্লাহ তাকে এমন প্রতিদান দেবেন যাতে সে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হয়ে যাবে—দুনিয়া ও আখিরাতে।


আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি ইঙ্গিত

অনেক মুফাসসির বলেন যে এই আয়াতগুলোর মূলত তাত্পর্য আবু বকর রাঃ–কে নির্দেশ করে;
কারণ তিনি:

  • প্রথম দিকের ঈমানদার

  • দান–খয়রাতে অগ্রগামী

  • নিঃস্বার্থভাবে ব্যয়কারী

  • কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করতেন

কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

যদিও তাঁর সম্পর্কে নাজিল হয়েছে, এই আয়াতের বিধান সাধারণ
অর্থাৎ, তাঁর মতো যে কেউ আল্লাহর জন্য নিঃস্বার্থভাবে দান করে, সে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।


Comments

Popular posts from this blog

ইফতার প্রস্তুতি: ইফতারের আগে কী করা উচিত?

লাইলাতুল কদর বেজোড় রাতে খোঁজার নির্দেশ