Posts

ইসলামী পরিভাষায়, হজ্জ হলো নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানসমূহে (কাবা, আরাফা, মুযদালিফা, মিনা) নির্দিষ্ট বিধানসমূহ অনুযায়ী ইহরাম বেঁধে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্ধারিত ইবাদত সম্পাদন করা।

Image
  হজ্জের সংজ্ঞা ইসলামী পরিভাষায়, হজ্জ হলো নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানসমূহে (কাবা, আরাফা, মুযদালিফা, মিনা) নির্দিষ্ট বিধানসমূহ অনুযায়ী ইহরাম বেঁধে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্ধারিত ইবাদত সম্পাদন করা। হজ্জের ফরজ (Obligatory Acts of Hajj) হজ্জে তিনটি মূল ফরজ আছে। এগুলোর যেকোনো একটি বাদ পড়লে হজ্জ সম্পূর্ণ হয় না এবং ক্ষতিপূরণস্বরূপ একটি কুরবানি দিতে হয়। ১. মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা নির্দিষ্ট সীমারেখা বা স্থানকে মিকাত বলা হয়। হজ্জ বা উমরাহ করতে হলে সেই মিকাত অতিক্রমের আগে ইহরাম বাঁধা ফরজ। কেউ যদি ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করে, তাহলে তাকে মিকাতে ফিরে গিয়ে ইহরাম বাঁধতে হবে। যদি না ফিরে আসে, তবে তাকে একটি কুরবানি (ফিদইয়া) দিতে হবে। ২. আরাফায় অবস্থান (Wuquf at Arafah) এটি হজ্জের প্রধান স্তম্ভ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল-হাজ্জু আরাফাহ” অর্থাৎ “হজ্জ মানেই আরাফা।” আরাফার ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা ফরজ। কেউ যদি দিনে বা রাতে অল্প সময়ের জন্যও সেখানে অবস্থান করে, তার হজ্জ সম্পন্ন হয়। ৩. তাওয়াফে ইফাদা (Main Tawaf after Arafah) ...

পাপীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণ

  পাপীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণ ১. সহানুভূতি ও নম্রতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো পাপীদের প্রতি ঘৃণা বা অহংকার দেখাননি। বরং তিনি তাদের বোঝাতে ও হৃদয় পরিবর্তন করতে ভালোবাসা ও যুক্তি ব্যবহার করতেন। যেমন, যে যুবক যিনা করার অনুমতি চেয়েছিল , নবী তাকে ধমক দেননি বরং ধৈর্যের সঙ্গে প্রশ্ন করে বোঝান — “তুমি কি তোমার মা, বোন, মেয়ে বা খালার জন্য এটা পছন্দ করবে?” এভাবে তিনি তরুণটির হৃদয় নরম করেন, তারপর তার জন্য দোয়া করেন — “হে আল্লাহ, তার পাপ ক্ষমা করো, তার হৃদয়কে পবিত্র করো এবং তার সতীত্ব রক্ষা করো।” ➤ ফলাফল: সে আর কখনও সেই পাপের দিকে ফিরে যায়নি। ২. ন্যায়বিচার ও শাস্তির সময়ও দয়া গামিদিয়া মহিলার ঘটনা দেখায়, নবী করীম (সা.) তওবা ও অনুতাপের দরজা খোলা রাখতেন । তিনি বারবার নারীটিকে ফিরিয়ে দেন, যেন সে গোপনে তওবা করে ফিরে আসে, কিন্তু যখন সে নিজে অনুতাপ করে দৃঢ় থাকে, তখনই শাস্তি কার্যকর হয়। এমনকি শাস্তি কার্যকর হওয়ার পরও নবী করীম (সা.) বলেন — “সে এমনভাবে তওবা করেছে যে, যদি তা মদীনার সত্তর জন লোকের মধ্যে ভাগ করে দেওয়...

“তাদের দিকে তাকাও যারা তোমার চেয়ে কম ভাগ্যবান…

Image
  “তোমার চেয়ে কম ভাগ্যবানদের দিকে তাকাও, আর তোমার চেয়ে বেশি ভাগ্যবানদের দিকে তাকিও না; কারণ এতে তুমি আল্লাহর নিয়ামতকে অবজ্ঞা করা থেকে বাঁচবে।” (বুখারি ও মুসলিম সম্মত, মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী) হাদিসের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এই হাদিসটি সংক্ষিপ্ত হলেও অত্যন্ত অর্থবহ। মানুষ এই দুনিয়ায় যত কষ্টেই থাকুক না কেন, সবসময় এমন কেউ থাকবে যে তার চেয়ে বেশি কষ্টে আছে। যদি মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে, তাহলে সে আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিয়ামতের কদর করতে পারবে। যদি কেউ নিজের চেয়ে ধনী বা সফল লোকদের দিকে তাকায়, তবে তার মনে অসন্তোষ, হিংসা ও অকৃতজ্ঞতা জন্ম নেবে। অন্যদিকে, যদি সে তার চেয়ে কম ভাগ্যবানদের দিকে তাকায়, তবে সে নিজের অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। হাদিস থেকে শিক্ষা ১. মানুষকে সবসময় তাদের দিকে তাকাতে হবে যারা দুনিয়াবি দিক থেকে কম ভাগ্যবান। এতে সে আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের কদর করতে পারবে। ২. যারা নিজেদের চেয়ে বেশি ধনী বা উন্নত লোকদের দিকে তাকায়, তারা প্রায়ই আল্লাহর দেয়া নিয়ামতগুলোকে ভুলে যায় এবং অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ে। ৩. কৃতজ্ঞতা একজন মুস...

সূরা আল-বালাদ: মানুষের জীবন সংগ্রাম ও আল্লাহর দান

Image
  সূরা আল-বালাদ: মানুষের জীবন সংগ্রাম ও আল্লাহর দান সূরা আল-বালাদ একটি মক্কায় অবতীর্ণ সূরা। আল্লাহ তাআলা এখানে বলেন, আমি এই শহর মক্কার শপথ করছি, আর তুমি হে মুহাম্মদ এই শহরের অধিবাসী। এবং পিতা ও যা তার থেকে জন্ম নিয়েছে তার শপথ করছি। আমি অবশ্যই মানুষকে কষ্ট ও পরিশ্রমের মধ্যে সৃষ্টি করেছি। সে কি মনে করে কেউ কখনও তার উপর ক্ষমতা রাখবে না? সে বলে, আমি অনেক সম্পদ ব্যয় করেছি। সে কি মনে করে কেউ তাকে দেখেনি? আমি কি তার জন্য দুটি চোখ, একটি জিহ্বা এবং দুটি ঠোঁট সৃষ্টি করিনি? আর আমি কি তাকে দুইটি পথ দেখাইনি? মক্কার মর্যাদা ও শপথের শিক্ষা আল্লাহ এই সূরায় মক্কার শপথ করেছেন কারণ এটি পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্থান। এটি সেই শহর যেখানে আল্লাহর ঘর কাবা অবস্থিত এবং যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছেন। আল্লাহর নামে শপথ করা বৈধ, কিন্তু অন্য কারো নামে শপথ করা জায়েজ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করে, সে কুফরি করল অথবা শিরক করল। আল্লাহ বলেন, তুমি হে মুহাম্মদ এই শহরের বাসিন্দা। এর মানে হলো, তো...

সূরা আল ফজর এবং প্রশান্ত আত্মার আহ্বান

  সূরা আল ফজর এবং প্রশান্ত আত্মার আহ্বান আল্লাহ তাআলা যখন মানুষের ভুল ধারণা স্পষ্ট করেন, যখন তারা পরীক্ষার প্রকৃতি এবং কেন আল্লাহ কাউকে সম্পদ দেন বা কেড়ে নেন তা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তখন তিনি কিয়ামতের দিনের সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, যখন পৃথিবী সমান করে ফেলা হবে, চূর্ণ বিচূর্ণ ও বিধ্বস্ত করা হবে, তখন তোমার প্রতিপালক আসবেন এবং ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। সেদিন জাহান্নামকে সামনে আনা হবে। সেদিন মানুষ তার অতীত স্মরণ করবে, কিন্তু সেই স্মরণ তার জন্য কোনো উপকারে আসবে না। সে বলবে, হায় আমি যদি আমার জীবনের জন্য কিছু ভালো কাজ আগে পাঠাতাম। আল্লাহ বলেন, সেদিন কেউ আল্লাহর মতো শাস্তি দিতে পারবে না এবং কেউ তাঁর মতো কঠিনভাবে বাঁধতে পারবে না। আর সেই দিনের ভয়াবহতার মধ্যে সৎ আত্মাকে বলা হবে, হে প্রশান্ত আত্মা, তোমার প্রভুর দিকে ফিরে যাও, সন্তুষ্ট হয়ে এবং তোমার প্রভুও তোমাতে সন্তুষ্ট। আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো। এই আয়াতগুলো আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার সম্পদ, সম্মান বা প্রতিযোগিতা কিছুই চিরস্থায়ী নয়। একদিন এই পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হবে, পর্বতসমূহ ধসে পড়বে এবং পৃথ...

ইসলাম সম্পর্কে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত বিষয় অস্বীকার করলে কী হয়?

Image
ইসলাম সম্পর্কে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত বিষয় অস্বীকার করলে কী হয়? ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা হলো — আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ যা স্পষ্টভাবে ফরজ, হারাম বা সত্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন, একজন মুসলিমের জন্য তা বিশ্বাস করা ও মেনে চলা বাধ্যতামূলক । যদি কেউ সেসব বিষয় অস্বীকার করে, অথচ জানে যে সেগুলো ইসলামে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত, তাহলে তা ঈমানের উপর গুরুতর আঘাত হানে। 🔹 প্রশ্ন ১: “যে ব্যক্তি ইসলামী শিক্ষায় স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয় অস্বীকার করে, তার অবস্থা কী হবে?” উত্তর: ➡️ সে কাফির (অবিশ্বাসী) হয়ে যায়। ব্যাখ্যা: ইসলামে কিছু বিষয় এমন আছে যা কুরআন ও হাদীসে একেবারে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত — যেমন নামাজ, রোযা, যাকাত, হজ ফরজ; সুদ হারাম; মদ নিষিদ্ধ; আল্লাহ একমাত্র উপাস্য ইত্যাদি। যদি কেউ এসবের মধ্যে কোনো একটি বিষয়কে অস্বীকার করে (যেমন বলে, “নামাজ ফরজ নয়” বা “মদ হারাম নয়”), অথচ সে জানে ইসলাম এগুলোকে স্পষ্টভাবে ফরজ বা হারাম ঘোষণা করেছে — তাহলে সে ইসলামের সীমার বাইরে চলে যায়। 📖 দলিল: আল্লাহ বলেন: “যে কেউ ঈমানের পর আল্লাহকে অস্বীকার করে... তার উপর আল্লাহর ক্রোধ আছে এবং তার জন্য রয়েছে ...

তাওয়াসসুলের ভাষাগত ও শরয়ী অর্থ | Sunnah Seekers

Image
 তাওয়াসসুল (التوسل) — অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উপায় — ইসলামী আকীদার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি সঠিকভাবে বোঝা অত্যন্ত প্রয়োজন, কারণ সঠিক তাওয়াসসুল ঈমানের অংশ, আর ভ্রান্ত তাওয়াসসুল মানুষকে শিরক বা বিদআতে ফেলতে পারে। নিচে এর বিশদ ব্যাখ্যা ও বিভাগসমূহ উপস্থাপন করা হলো। তাওয়াসসুলের ভাষাগত ও শরয়ী অর্থ ভাষাগত অর্থ: তাওয়াসসুল এসেছে “وسيلة” (ওয়াসিলাহ) শব্দ থেকে, যার অর্থ হলো এমন কোনো মাধ্যম বা উপায়, যার মাধ্যমে কেউ কোনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য বা ব্যক্তির নিকটবর্তী হতে পারে। শরয়ী (ইসলামী) অর্থ: আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে এমন আমল বা উপায় অবলম্বন করা যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা অনুমোদিত। কুরআনের দলিলসমূহ ১️⃣ সূরা আল-মায়িদাহ (৫:৩৫) "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর নৈকট্য অর্জনের উপায় (ওসীলা) অনুসন্ধান কর, এবং তাঁর পথে জিহাদ কর, যাতে তোমরা সফল হও।" 🔹 তাফসির: কাতাদাহ (রহ.) বলেন — ওসীলা অর্থাৎ এমন আমল করা যা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের উপায়। ২️⃣ সূরা আল-ইসরা (১৭:৫৭) "যাদের তারা ডাকে (মিথ্যা উপাস্য মনে করে), তারা...