“আল্লাহ উত্তম এবং তিনি উত্তম ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না” — ব্যাখ্যা ও শিক্ষা
“আল্লাহ উত্তম এবং তিনি উত্তম ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না” — ব্যাখ্যা ও শিক্ষা
Abu Huraira (রাঃ) থেকে বর্ণিত, Muhammad (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ উত্তম এবং তিনি উত্তম বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। এই হাদিস ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি তুলে ধরে—মানুষের আমল, উপার্জন, খাদ্য এবং জীবনযাত্রা সবকিছুই হতে হবে পবিত্র ও হালাল।
এই হাদিসের শুরুতেই আমাদের জানানো হয়েছে যে, আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত, পবিত্র এবং পরিপূর্ণ। তাঁর সত্তা, তাঁর গুণাবলী, তাঁর নাম এবং তাঁর সকল কাজই উত্তম। তাই তিনি বান্দার পক্ষ থেকে এমন কিছুই গ্রহণ করেন না যা অপবিত্র, হারাম বা খারাপ।
আল্লাহ যেমন রাসূলদেরকে হালাল ও উত্তম খাদ্য গ্রহণ করতে এবং সৎকর্ম করতে নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনি মুমিনদের জন্যও একই বিধান নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, হালাল খাদ্য ও সৎকর্ম একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একজন মানুষের খাবার যদি হালাল হয়, তাহলে তার আমলও সহজে কবুল হওয়ার পথে এগিয়ে যায়।
এরপর হাদিসে একটি গভীর শিক্ষণীয় উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। এমন একজন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যে দীর্ঘ ভ্রমণে আছে। তার চুল এলোমেলো, শরীর ধুলোয় ঢাকা, সে বিনয়ী অবস্থায় আকাশের দিকে হাত তুলে বারবার বলে, “হে প্রভু, হে প্রভু।” দোয়া কবুল হওয়ার প্রায় সব শর্তই তার মধ্যে রয়েছে—ভ্রমণ, বিনয়, হাত তোলা এবং আন্তরিকতা। তবুও তার দোয়া কবুল হচ্ছে না।
এর কারণ হলো, তার উপার্জন হারাম। তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম এবং সে হারাম দ্বারা প্রতিপালিত হয়েছে। তাই তার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। এই উদাহরণ আমাদের জন্য একটি কঠিন সতর্কবার্তা—শুধু ইবাদত করলেই হবে না, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হালালকে নিশ্চিত করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, হারাম উপার্জন শুধু একটি গুনাহ নয়, এটি মানুষের ইবাদত ও দোয়ার উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে। কেউ যতই ইবাদত করুক, যদি তার জীবিকা হারাম হয়, তাহলে তার আমল গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। তাকওয়া শুধু বাহ্যিক আমলে নয়, বরং অন্তরের সাথে সম্পর্কিত। একজন ব্যক্তি যদি অন্তরে আল্লাহভীতি ধারণ করে, তাহলে সে স্বাভাবিকভাবেই হালাল-হারাম সম্পর্কে সতর্ক থাকবে।
এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, ইসলামে কৃত্রিম কষ্ট করা বা হালাল জিনিস থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা প্রশংসনীয় নয়। বরং আল্লাহ যে হালাল ও উত্তম রিযিক দিয়েছেন, তা গ্রহণ করা এবং তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
সবশেষে, এই হাদিস আমাদের একটি বাস্তব শিক্ষা দেয়—আমাদের দোয়া কবুল না হওয়ার পেছনে অনেক সময় আমাদের নিজের ভুলই দায়ী। তাই আমাদের উচিত নিজের উপার্জন, খাদ্য, পোশাক এবং জীবনের প্রতিটি দিককে হালাল ও পবিত্র রাখা।
একজন প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি, যে শুধু ইবাদতে নয়, বরং তার উপার্জন, খাদ্য এবং জীবনযাত্রায়ও আল্লাহর বিধান মেনে চলে। যখন মানুষের ভেতর এবং বাহির উভয়ই পবিত্র হয়, তখনই সে আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে এবং তার দোয়া কবুল হওয়ার দরজা খুলে যায়।
Comments
Post a Comment