Posts

প্রকৃত ঈমানের চাবিকাঠি: “তোমাদের কেউ প্রকৃত ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে”

 প্রকৃত ঈমানের চাবিকাঠি: “তোমাদের কেউ প্রকৃত ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে” নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই মহান বাণীটি ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির একটিকে প্রকাশ করে। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদিস আমাদেরকে শেখায় যে, প্রকৃত বিশ্বাস শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিকতা বা নিজস্ব নৈতিকতার সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন সত্যিকারের মুসলিমের হৃদয় সর্বদা অন্যদের কল্যাণের প্রতি উদার ও সংবেদনশীল থাকে। হাদিসের মূল বার্তা “তোমাদের কেউ প্রকৃত ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” এখানে ভাই বলতে কেবল পারিবারিক সম্পর্ক নয়, বরং সকল মুসলিম ভাই এবং মানবতা বোঝায়। যা নিজের জন্য ভালো লাগে , তা কেবল সম্পদ বা সুবিধা নয়, বরং সত্য, ন্যায়, নিরাপত্তা, এবং মানসিক শান্তি। অর্থাৎ, ঈমান সম্পূর্ণ হয় যখন আমরা আমাদের হৃদয়ে ঈমানের প্রতিফলন ঘটাই এবং সেই প্রতিফলন অন্যদের কল্যাণেও প্রয়োগ করি। সমাজে হাদিসের প্রয়োগ এই হাদিস যদি বাস্তব...

সমসাময়িক নাস্তিকতা: এক বিভ্রান্ত চিন্তার উত্থান

  সমসাময়িক নাস্তিকতা: এক বিভ্রান্ত চিন্তার উত্থান লিখেছেন: Sunnah Seeker আজকের বিশ্বে আমরা এক অদ্ভুত বাস্তবতার মুখোমুখি—অনেক মানুষ নিজেদের “নাস্তিক” বলে পরিচয় দিচ্ছে। তারা দাবি করে, “ঈশ্বর বলে কিছু নেই”, “ধর্ম মানুষ তৈরি করেছে”, বা “বিজ্ঞানই সব ব্যাখ্যা দিতে পারে।” কিন্তু সত্যিই কি এমন? নাকি এটি কেবল বিভ্রান্তির আরেক রূপ? নাস্তিকতা মানে কী “নাস্তিকতা” বা আরবিতে ইলহাদ (إلحاد) শব্দের অর্থ—সত্য পথ থেকে সরে যাওয়া। ইসলামী দৃষ্টিতে, এটি এমন এক মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্যুতি, যেখানে মানুষ স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করে এবং নিজেকে স্বাধীন মনে করে। কিন্তু বাস্তবে, এই অস্বীকারই তার হৃদয়ের অস্থিরতা ও আত্মিক শূন্যতার প্রকাশ। ইতিহাসে নাস্তিকতা অতীতে মানুষ ভুল করেছিল—কেউ আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য জুড়ে দিয়েছিল (শিরক), কেউ আল্লাহ সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেছিল। কিন্তু “স্রষ্টা নেই”—এই দাবি ইতিহাসে প্রায় অনুপস্থিত। মানব প্রকৃতি নিজেই এক স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকারে বাধ্য। আল্লাহ বলেন: “বলুন, কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক দেন?... তারা বলবে, ‘আল্লাহ।’” (সূরা ইউনুস ১০:৩১) অতএব, সত্যিক...

মসজিদ ইসলামের সবচেয়ে সম্মানিত স্থান। মসজিদের প্রতি আদব বা শিষ্টাচার রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

 মসজিদের আদব মসজিদ ইসলামের সবচেয়ে সম্মানিত স্থান। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে মুসলমানরা আল্লাহর ইবাদত করে, কুরআন তেলাওয়াত করে, নামাজ পড়ে এবং ইসলামী শিক্ষা লাভ করে। তাই মসজিদের প্রতি আদব বা শিষ্টাচার রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। প্রথমত মসজিদ নির্মাণ ও পবিত্রতার আদব মসজিদ শুধু আল্লাহর ইবাদতের জন্য। এখানে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছু শরীক করা যাবে না। শিরক বা কবরপূজার মতো কোনো কাজের স্থান যেন মসজিদ না হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর কয়েকদিন আগে বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো তাদের নবী ও সৎ লোকদের কবরকে ইবাদতের স্থান বানিয়েছিল। তোমরা কবরকে ইবাদতের স্থান বানিও না, আমি তোমাদের তা করতে নিষেধ করছি। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুকালীন অসুস্থতার সময় বলেন, আল্লাহ ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের ওপর অভিশাপ করুন, তারা তাদের নবীদের কবরকে ইবাদতের স্থান বানিয়েছিল। তিনি ভয় করতেন যে, তাঁর কবরকেও কেউ ইবাদতের স্থান বানাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর উঁচু করা, গম্বুজ বা ইটের কাঠামো নির্মাণ করা বা তা প্লাস্টার করার অনুমতি দেননি। ইবনুল কা...

মুমিনদের ঐক্য ও পারস্পরিক সহায়তা

   মুমিনদের ঐক্য ও পারস্পরিক সহায়তা আরবি হাদীসের সারমর্ম: আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন — রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “মুমিনরা একটি কাঠামোর (ভবনের) মতো; যার প্রতিটি অংশ অন্য অংশকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।” তারপর তিনি তাঁর আঙুলগুলো একে অপরের সাথে জড়িয়ে দেখালেন। ( সহিহ আল-বুখারী ও মুসলিম — মুত্তাফাকুন আলাইহি ) বর্ণনাকারীর পরিচয়: আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (আবদুল্লাহ ইবন কাইস রা.) ইয়েমেনের অধিবাসী ছিলেন হিজরতের আগে মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন পরে হাবশায় (ইথিওপিয়া) হিজরত করেন খাইবার বিজয়ের পর মদীনায় ফিরে আসেন নবী ﷺ তাঁকে ইয়েমেনের গভর্নর নিযুক্ত করেন উমর ও উসমান (রা.) তাঁকে যথাক্রমে বসরা ও কূফার গভর্নর বানান ৪৪ হিজরিতে মৃত্যু বরণ করেন বাক্যাংশের ব্যাখ্যা: “বিশ্বাসীরা একটি কাঠামোর মতো” অর্থাৎ মুমিনরা পারস্পরিক সহযোগিতা, ভালোবাসা ও সহানুভূতির বন্ধনে এমনভাবে যুক্ত থাকবে যেমন একটি দৃঢ় ভবনের ইটগুলো একে অপরের উপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে থাকে। নবী ﷺ তাঁর আঙুলগুলো জড়িয়ে এই ধারণাটিকে বাস্তব চিত্রে ফুটিয়ে তুলেছেন — যাতে মুমিনদের ঐক্য, পারস্পরিক নির্ভরতা ও সং...

সাহায্য ও রিযিক দুর্বলদের কারণে

  সাহায্য ও রিযিক দুর্বলদের কারণে আরবি হাদীসের সারমর্ম: مُصْعَب بن سعد رضي الله عنه থেকে বর্ণিত — সা‘দ মনে করতেন যে, তিনি অন্যদের তুলনায় বেশি শ্রেষ্ঠ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের কি সাহায্য করা হয় এবং রিযিক দেওয়া হয় না কি তোমাদের দুর্বলদের কারণে?” (সহীহ আল-বুখারী) হাদীসের বর্ণনাকারী: সা‘দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি কুরাইশ বংশের, ইসলামে ষষ্ঠ ব্যক্তি যিনি ঈমান গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবির (আশারায়ে মুবারাক্কাহ) একজন এবং ইসলামের প্রথম তীরন্দাজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উহুদের যুদ্ধে তাঁকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “হে সা‘দ, নিক্ষেপ করো! আমার বাবা-মা তোমার জন্য উৎসর্গ হোক।” এ কথা তিনি আর কাউকে বলেননি। বাক্যাংশের ব্যাখ্যা: “সা‘দ ভেবেছিলেন যে তাঁর চেয়ে কম ভাগ্যবানদের উপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব আছে” অর্থাৎ, সাহস, উদারতা ও নেতৃত্বের গুণে তিনি শ্রেষ্ঠ মনে করতেন। এটি অহংকার বা আত্মপ্রশংসার কারণে ছিল না, বরং তিনি ভেবেছিলেন তাঁর কর্ম ও শক্তির কারণে তিনি অন্যদের তুলনায় বেশি ফলপ্রসূ। কিন্তু নবী সাল্...

যে আত্মাকে শুদ্ধ করে, সে জান্নাতের যোগ্য হয় — আর যে আত্মাকে মন্দে নিমজ্জিত করে, সে জাহান্নামের জন্য নির্ধারিত হয়।

  সূরা আশ-শামস — আত্মার পরিশুদ্ধি ও নৈতিক সাফল্যের শিক্ষা সূত্র: সূরা আশ-শামস (সূরা ৯১: আয়াত ১–১০) অবতীর্ণ স্থান: মক্কা আয়াতসমূহ আল্লাহ তাআলা বলেন: “শপথ সূর্যের ও তার আলোর, আর চাঁদের, যখন তা তার অনুসরণ করে, আর দিনের, যখন তা সূর্যকে উদ্ভাসিত করে, আর রাতের, যখন তা সূর্যকে ঢেকে ফেলে, আর আকাশের, যিনি তা নির্মাণ করেছেন, আর পৃথিবীর, যিনি তা বিস্তৃত করেছেন, আর আত্মার, যিনি তা সুঠামভাবে গঠন করেছেন, এবং তাকে তার পাপ ও ধার্মিকতার জ্ঞান দান করেছেন, সে সফল হয়েছে যে আত্মাকে পবিত্র করেছে, আর সে ব্যর্থ হয়েছে যে আত্মাকে কলুষিত করেছে।” [আশ-শামস ৯১:১–১০] আয়াতের সারমর্ম ও ভাষ্য ১. সূর্য ও চন্দ্রের শপথ আল্লাহ সূর্যের আলো ও তেজের শপথ করেছেন, কারণ সূর্য আল্লাহর শক্তি ও প্রজ্ঞার এক মহা নিদর্শন। চাঁদের শপথ করা হয়েছে, কারণ তা সূর্যের আলো ধার নিয়ে রাতকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। দিন ও রাতের এই পরিবর্তনই আল্লাহর পরিকল্পনা ও ভারসাম্যের প্রতীক। ২. আকাশ ও পৃথিবীর শপথ আল্লাহ আকাশের শপথ করেছেন, যাকে তিনি সুবিন্যস্তভাবে নির্মাণ করেছেন। তিনি পৃথিবীর শপথ করেছেন, যাকে তিনি জীবজন্তুর বাসযোগ্য কর...

আত্মসংযম, দান, দয়া ও ঈমানের শিক্ষা

Image
 আত্মসংযম, দান, দয়া ও ঈমানের শিক্ষা আয়াতসমূহ আল্লাহ বলেন, কিন্তু সে কঠিন পথ অতিক্রম করেনি। আর তুমি কি জানো সেই কঠিন পথ কী? তা হলো একজন দাসকে মুক্ত করা, অথবা তীব্র ক্ষুধার দিনে একজন নিকটাত্মীয় এতিম কিংবা অভাবগ্রস্ত দরিদ্রকে খাদ্য দান করা। এরপর যারা ঈমান এনেছে, একে অপরকে ধৈর্য ও দয়ার উপদেশ দিয়েছে, তারাই ডানদিকের সঙ্গী। আর যারা আমার নিদর্শন অস্বীকার করেছে, তারাই বামদিকের সঙ্গী; তাদের উপর থাকবে আগুন ঘেরা। সূরা আল-বালাদ ৯০:১১–২০ আয়াতের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য আকাবা শব্দের অর্থ হলো দুর্গম পাহাড়ি পথ বা এমন একটি রাস্তা যা পার হওয়া কঠিন। আল্লাহ এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন মানুষের নফস, খেয়াল-খুশি ও শয়তানের প্রলোভনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম বোঝাতে। অর্থাৎ, কঠিন পথ হলো সেই নৈতিক ও আত্মিক সংগ্রাম যেখানে একজন মানুষ নিজের লোভ, অহংকার ও স্বার্থপরতার বিপরীতে সৎকর্মের দিকে এগিয়ে যায়। আল্লাহ বলেন, সে কেন কঠিন পথটি অতিক্রম করল না? অর্থাৎ, কেন সে নিজের নফসকে পরাস্ত করে সৎকর্মে প্রবেশ করল না? কঠিন পথ আসলে কী আল্লাহ নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন যে কঠিন পথ মানে কষ্ট ভোগ নয়, বরং মানবিক দায়িত্বে এগিয়ে আসা। একজন দাসকে ...