Posts

কথা বলার শিষ্টাচার: ইসলামী আদর্শে ভাষা ব্যবহারের নৈতিকতা

Image
  কথা বলার শিষ্টাচার: ইসলামী আদর্শে ভাষা ব্যবহারের নৈতিকতা লেখক: Sunnah Seekers Team বিষয়: আদব ও আখলাক ভূমিকা আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে ভাষার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ক তৈরির এক অপূর্ব ব্যবস্থা করেছেন। যেমন কবি বলেন: একজন মানুষের অর্ধেক হলো তার জিহ্বা আর বাকি অর্ধেক হলো তার হৃদয়। ইসলামে জিহ্বার সংযম, ভদ্রতা, এবং সচেতনতা এক অনন্য গুণ হিসেবে বিবেচিত। আসুন জেনে নিই, কীভাবে একজন মুসলিমকে কথাবার্তায় শিষ্টাচার বজায় রাখতে হয়। ১. মসজিদে উচ্চস্বরে কথা না বলা আল্লাহ বলেন: তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, নিশ্চয়ই সবচেয়ে অপ্রীতিকর আওয়াজ হলো গাধার আওয়াজ। (সূরা লুকমান ৩১:১৯) ইবনে কাছীর ব্যাখ্যা করেন: প্রয়োজন ছাড়া কণ্ঠস্বর উঁচু করা উচিত নয়। ২. অহংকারপূর্ণ ও প্রভাবিতভাবে কথা বলা নিষিদ্ধ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত সেই ব্যক্তি যে প্রভাবিতভাবে অহংকার করে কথা বলে ও অন্যকে হেয় করে। (তিরমিযী) ৩. মিথ্যা, গীবত, এবং অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: মানুষ এমন কিছু বলে বসে, যার পরিণতি না বুঝেই ...

হজের মীকাত: ইসলামের নির্ধারিত সীমা ও এর গুরুত্ব

Image
   হজের মীকাত: ইসলামের নির্ধারিত সীমা ও এর গুরুত্ব বিষয়: হজ ও ওমরার প্রাথমিক নিয়ম ব্লগ সিরিজ: হজ শিক্ষা | লেখক: Sunnah Seekers Team 📖 মীকাত কী? মিকাত শব্দটি আরবি "وقت" (সময়) ও "مكان" (স্থান) থেকে এসেছে, যার অর্থ নির্দিষ্ট সময় বা সীমারেখা । হজ ও ওমরা পালনের ক্ষেত্রে দু’ধরনের মীকাত আছে: ১️⃣ সময়ের মীকাত (Miqaat al-Zamaan) হজ করার নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। আল্লাহ বলেন: "হজ সুপরিচিত মাসসমূহে অনুষ্ঠিত হয়…" (সূরা আল-বাকারা ২:১৯৭) ইবনে উমার (রাঃ) বলেন: “হজের মাসসমূহ হল শাওয়াল, যিলক্বদ এবং যিলহজ্জের প্রথম দশ দিন।” এই সময়ের মধ্যে হজের জন্য ইহরাম বাঁধা যায়, এর বাইরে নয়। ২️⃣ স্থানের মীকাত (Miqaat al-Makaan) স্থানের মীকাত হলো এমন নির্ধারিত সীমা যা একজন হজ বা ওমরা পালনকারী ব্যক্তি ইহরাম না বেঁধে অতিক্রম করতে পারবে না । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঁচটি মীকাত নির্ধারণ করেছেন, যা প্রতিটি ভৌগলিক অঞ্চলের জন্য আলাদা: 🗺️ নির্ধারিত পাঁচটি মীকাত: 📍 মীকাত 🌍 ভৌগলিক অঞ্চল 📏 মক্কা থেকে দূরত্ব যুল-হুলাইফা মদীনা ও এর পাশের অঞ্চল ৪২০ কিমি আল-জ...

সন্তানদের মাঝে উপহার বিতরণে ন্যায্যতা — একটি ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

Image
  সন্তানদের মাঝে উপহার বিতরণে ন্যায্যতা — একটি ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি Sunnah Seekers Blog | হাদীস আলোচনা সিরিজ 🕋 হাদীস আন-নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) বলেন: "আমার মা আমাকে তার স্বামীর (আমার বাবা) নিকট একটি উপহার দিতে বললেন। তিনি উপহার দিতে রাজি হলেন, কিন্তু আমার মা বললেন, ‘আমি সন্তুষ্ট হব না যতক্ষণ না আপনি এ বিষয়ে আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে সাক্ষী রাখেন।’ অতঃপর আমার পিতা আমাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন। তখন আমি ছিলাম ছোট। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার ছেলেকে একটি উপহার দিয়েছি, আর আমি চাই আপনি তার সাক্ষী হোন।’ তিনি (সা.) বললেন, ‘তুমি কি অন্য সন্তানদেরকেও এমন কিছু উপহার দিয়েছো?’ তিনি বললেন, ‘না।’ তখন তিনি (সা.) বললেন: ‘তাহলে আমাকে এর সাক্ষী বানিও না, কারণ আমি জুলুমের সাক্ষী হই না।’ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) 📌 মূল শিক্ষা ইসলামে সন্তানদের মাঝে উপহার বা সম্পদ বন্টনে ন্যায্য আচরণ করা ফরয। কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হলে তা অন্যদের প্রতি অবিচার হিসেবে বিবেচিত হয়। এই হাদীসে স্পষ্টভাবে রাসূল (সা.) বলেছেন যে, তিনি অন্যায়ের সাক্ষী হন না , যা ...

অহংকার: জান্নাতের পথে একটি গোপন বাধা | নবী করিম (ﷺ)-এর সতর্কবার্তা

Image
  অহংকার: জান্নাতের পথে একটি গোপন বাধা নবী করিম (ﷺ)-এর সতর্কবার্তা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যার অন্তরে এক কণা পরিমাণও অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “মানুষ তো চায় তার পোশাক ও জুতা সুন্দর হোক?” রাসুল ﷺ বললেন, “আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা।” [সহীহ মুসলিম] হাদিসের ব্যাখ্যা: এই হাদিসে নবী করিম (ﷺ) আমাদের সতর্ক করছেন এমন একটি গুণ থেকে, যা অনেক সময় অজান্তেই আমাদের অন্তরে বাসা বাঁধে — অহংকার। “এক কণা” পরিমাণ কী? আরবিতে “দাররাহ” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ ধুলোর সবচেয়ে ছোট কণা। অর্থাৎ, এতটুকু অহংকারও যদি কারো অন্তরে থাকে, তা জান্নাতপ্রাপ্তির পথে রুদ্ধ করতে পারে। অহংকার কী? ইসলামী পরিভাষায়, অহংকার মানে হলো: সত্যকে অস্বীকার করা – যখন কেউ অহংকারের কারণে সঠিক কথা বা হক গ্রহণ করতে চায় না। মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা – নিজেকে সবার চেয়ে বড় ভাবা, অন্যদের ছোট করে দেখা। সৌন্দর্য পছন্দ করা অহংকার নয় নবী ﷺ পরিষ্কারভাবে বলেছেন: “আল্লাহ সুন্দর, তিনি স...

ভালো কথা, প্রতিবেশী ও অতিথির অধিকার | আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,

Image
  ভালো কথা, প্রতিবেশী ও অতিথির অধিকার আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার অতিথিকে সম্মান করে।” — সহীহ বুখারী ও মুসলিম হাদিসের ব্যাখ্যা এই হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের মধ্যে উত্তম চরিত্র ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন: ১. ভালো কথা বলা বা নীরব থাকা এটি একটি শর্তসাপেক্ষ আদেশ। ঈমানদার ব্যক্তি কেবল ভালো কিছু বলবে, অন্যথায় চুপ থাকবে। ভালো কথা বলতে বোঝায়: আল্লাহর জিকির, কুরআন তিলাওয়াত, উপদেশ, সদ্ব্যবহার, সত্য বলা, উপকারী কথা। নীরবতা তখনই ভালো, যখন কথা বলে কোনো উপকার নেই, বরং বিপদ হতে পারে। যেমন বলা হয়: “চুপ থাকা অলংকার ছাড়া অলংকার, দুর্গ ছাড়া দুর্গ।” ২. প্রতিবেশীকে সম্মান করা প্রতিবেশী মানে শুধু পাশের বাড়ির লোক নয়, বরং আশপাশে বসবাসকারী, সহযাত্রী, এম...

কথা বলার ইসলামী শিষ্টাচার (Adab of Speech in Islam)

Image
  কথা বলার ইসলামী শিষ্টাচার (Adab of Speech in Islam) ইসলামে ভাষা মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা। এর মাধ্যমে আমরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করি, চাহিদা পূরণ করি এবং সম্পর্ক গড়ি। কিন্তু ভাষা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার না করা হয়, তা মানুষকে বিপদে ফেলতে পারে। ইসলাম আমাদের জিহ্বা সংযত রাখার এবং উপযুক্ত কথাবার্তায় নিয়ন্ত্রণ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ১. মসজিদে কথা বলার নিয়ম মসজিদে প্রয়োজন ছাড়া উচ্চস্বরে কথা বলা নিষেধ । কুরআন: “আর তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, নিশ্চয়ই সবচেয়ে অপ্রীতিকর আওয়াজ হলো গাধার আওয়াজ।” [লুকমান ৩১:১৯] উদ্দেশ্য ছাড়া কথা বললে তা অপ্রয়োজনীয়, তাই সংযত থাকা উত্তম। ২. প্রভাবিত বা অহংকারী ভঙ্গিতে কথা না বলা দীর্ঘশ্বাস, অহংকার বা অতিরিক্ত কথা বলার মাধ্যমে নিজেকে অন্যদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেখানোর চেষ্টা নিষিদ্ধ। নবী ﷺ: “মানুষের মধ্যে যারা মানুষের সঙ্গে খারাপভাবে কথা বলে, তারাই পরকালেও আমার থেকে দূরে থাকবে।” (আহমাদ, তিরমিজি) ৩. মিথ্যা, বিদ্বেষ ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা মিথ্যা কথা, বিদ্বেষপূর্ণ কথাবার্তা বা অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা হারাম। নবী ...

সর্বোচ্চের প্রশংসাগীতি: সূরা আল-আ'লার স্নিগ্ধ ছায়ায়

Image
  সর্বোচ্চের প্রশংসাগীতি: সূরা আল-আ'লার স্নিগ্ধ ছায়ায় কুরআনের প্রতিটি সূরা এক একটি জ্ঞানের মহাসাগর, যা আমাদের আত্মাকে আলোকিত করে এবং আমাদের জীবনকে পথ দেখায়। এমনই একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত প্রভাবশালী সূরা হলো সূরা আল-আ'লা (সর্বোচ্চ)। মক্কায় অবতীর্ণ এই সূরাটি শুরু হয়েছে একটি শক্তিশালী নির্দেশ দিয়ে, যা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে প্রাসঙ্গিক: আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা। আসুন, এই সূরার প্রথম আটটি আয়াতের গভীর অর্থ এবং আমাদের জন্য এতে থাকা শিক্ষাগুলো নিয়ে চিন্তা করি। ১. তাসবীহ: শুধু শব্দের চেয়েও বেশি কিছু সূরাটি শুরু হয়েছে এই আয়াত দিয়ে: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} "তোমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করো।" তাসবীহ (পবিত্রতা ঘোষণা) মানে কেবল মুখে "সুবহানাল্লাহ" বলা নয়। এর প্রকৃত অর্থ হলো, আল্লাহকে এমন সমস্ত ত্রুটি বা অপূর্ণতা থেকে মুক্ত বলে ঘোষণা করা যা তাঁর মহত্ত্বের সঙ্গে বেমানান। এটি আল্লাহর স্মরণ (যিকির), তাঁর ইবাদত এবং তাঁর বিশালতার সামনে নিজের বিনয় প্রকাশ করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমা...