Posts

Showing posts from March, 2025

আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে যে, মানবদেহে প্রায় ৩৬০টি জয়েন্ট রয়েছে

Image
হাদিস "প্রতিটি দিন, যখন সূর্য উদিত হয়, আমাদের শরীরের প্রতিটি জয়েন্টের জন্য দান দেয়া উচিত। আল্লাহর প্রশংসা করা, তাঁর পথে হাঁটা, হাসি, অন্যদের সাহায্য করা, এমনকি রাস্তা থেকে ক্ষতিকর কিছু সরানোও দানের অন্তর্গত।" (সহীহ মুসলিম)   যে হাদিসটি আপনি উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে প্রতিটি জয়েন্টের জন্য প্রতিদিন দান করতে হবে, তা মানবদেহের শারীরবৃত্তি সম্পর্কে একটি গভীর বোঝাপড়া প্রদর্শন করে, যা আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সাথে মেলে। এই হাদিসটি প্রমাণ হিসেবে দেখা যেতে পারে যে, প্রফেট মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যিকার এক নবী ছিলেন, যিনি এমন তথ্য দিয়েছেন, যা আধুনিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে অনেক পরে নিশ্চিত করা হয়েছে। হাদিসটি : প্রফেট মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রতিটি দিন, যখন সূর্য উদিত হয়, আমাদের শরীরের প্রতিটি জয়েন্টের জন্য দান দেয়া উচিত। আল্লাহর প্রশংসা করা, তাঁর পথে হাঁটা, হাসি, অন্যদের সাহায্য করা, এমনকি রাস্তা থেকে ক্ষতিকর কিছু সরানোও দানের অন্তর্গত।" (সহীহ মুসলিম) আধুনিক বিজ্ঞান এবং ৩৬০টি জয়েন্ট : আধুনিক বিজ্ঞান ...

লাইলাতুল কদর বেজোড় রাতে খোঁজার নির্দেশ

Image
 🔰লাইলাতুল কদর (শবে কদর) এটি রমাদানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে এক রাতে সংঘটিত হয় বলে নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উল্লেখ করেছেন। 📌১. লাইলাতুল কদর বেজোড় রাতে খোঁজার নির্দেশ আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তোমরা লাইলাতুল কদরকে রমাদানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তালাশ করো।” (সহীহ বুখারী: ২০১৭, সহীহ মুসলিম: ১১৬৯) 📌২. লাইলাতুল কদরের রাত ২৭তম হতে পারে ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “কেউ যদি লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করতে চায়, তবে সে যেন তা রমাদানের শেষ সাত রাতে খোঁজে।” (সহীহ বুখারী: ২০২১, সহীহ মুসলিম: ১১৬৫) 🔰 লাইলাতুল কদর ইবাদতের মর্যাদা আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান ও সওয়াবের আশায় সালাত আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।” (সহীহ বুখারী: ১৯০১, সহীহ মুসলিম: ৭৬০) 🤲লাইলাতুল কদরে দোয়া করার উপদেশ আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি ...

সহজ কিছু সুন্নত যা নিয়ে আসে অনেক সওয়াব

Image
  সহজ কিছু সুন্নত যা নিয়ে আসে অনেক সওয়াব রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ আমাদের জীবনে বরকত ও শান্তি নিয়ে আসে। কিছু ছোট ছোট আমল রয়েছে, যা করতে খুব সহজ, কিন্তু এর মাধ্যমে আমরা বিপুল পরিমাণ সওয়াব অর্জন করতে পারি। আসুন জেনে নিই এমন কিছু সহজ সুন্নত, যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে নিয়ে আসতে পারে অফুরন্ত কল্যাণ। দৈনন্দিন জীবনের সহজ সুন্নত ১. সালামের মাধ্যমে ভালোবাসা ছড়ানো 🤝 রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "তোমরা সালাম প্রচার করো, এতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।" (মুসলিম) সর্বোচ্চ সওয়াবের জন্য বলা উচিত: "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু" সালাম দিলে দুনিয়াতে ভালোবাসা বাড়ে, আর আখিরাতে জান্নাতের পথ প্রশস্ত হয়। ২. খাওয়ার আগে ও পরে দোয়া পড়া 🍽️ খাওয়ার আগে "বিসমিল্লাহ" বলা সুন্নাহ। যদি ভুলে যান, তবে বলতে পারেন: "বিসমিল্লাহি আওয়ালিহি ওয়া আখিরিহি" (আল্লাহর নামে, শুরুতে এবং শেষে)। খাওয়া শেষ হলে পড়তে পারেন: "আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআমানা ওয়া সাকানানা ওয়া জালানানা মিনাল মুসলিমিন" (সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আ...

ইসলামে বড়দের ও ছোটদের সম্পর্ক: করণীয় ও আদর্শ

Image
   ইসলামে বড়দের ও ছোটদের সম্পর্ক: করণীয় ও আদর্শ ইসলামে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ছোটদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় রাখতে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এই সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। বড়দের প্রতি শ্রদ্ধার গুরুত্ব ইসলামে আমাদেরকে বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে বলা হয়েছে। তারা আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, এবং তাদের জ্ঞান ও উপদেশ আমাদের পথপ্রদর্শক। কোরআন ও হাদিসে নির্দেশনা: ১. আল্লাহ বলেন: “তুমি তোমার পিতামাতার প্রতি সদয় আচরণ করো। যদি তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।” (সূরা ইসরা: ২৩) ২. রাসূল (সা.) বলেছেন: “যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (তিরমিজি: ১৯১৯) কীভাবে বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবো? বড়দের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলা তাদের সামনে উচ্চস্বরে কথা না বলা তাদের উপদেশ ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয...

মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের জন্য তাড়াহুড়ো করা ওয়াজিব

 মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের জন্য তাড়াহুড়ো করা ওয়াজিব: তাড়াহুড়ো করে তাকে প্রস্তুত করে দাফন করা। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম صلى الله عليه وسلم বলেছেন: “মৃতকে কবরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ত্বরা কর, কেননা সে যদি ভালো হয় তবে তা উত্তম কিছু যার দিকে তোমরা তাকে নিয়ে যাচ্ছ, আর যদি সে অন্যথায় ছিল, তবে তা খারাপ যা থেকে তোমরা নিজেদেরকে পরিত্রাণ কর।” আল-বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত। মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের জন্য তাড়াহুড়ো করা ওয়াজিব, তা আল্লাহর জো, যেমন যাকাত, হজ, কোনো ইবাদত করার মানত বা কাফফারা দেওয়া হোক না কেন; অথবা সেগুলি মানুষের কাছে পাওনা ছিল, যেমন নিরাপদ রাখার জন্য তার কাছে ন্যস্ত করা জিনিসগুলি ফেরত দেওয়া, যে জিনিসগুলি সে জোর করে নিয়েছিল বা যে জিনিসগুলি সে ধার করেছিল, সে সেই প্রভাবের জন্য নির্দেশ রেখেছিল বা না করেছিল। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুমিনের আত্মা তার ঋণের কারণে স্থগিত থাকে, যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করা হয়।" মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া কোন অসিয়ত সম্পাদনে তাড়াহুড়ো করা, কারণ তা ত্বরা করা পুরষ্কার, এবং আল্লাহ তা'য়...

কুরআন তেলাওয়াত করো , কেন না, কিয়ামতের দিন কুরআন তার পাঠকের জন‍্য সুপারিশ করবে

Image
  🟢পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে সৎকাজে ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে। তাঁরা এমন ব্যবসার আশাবাদী, যাতে কখনও লোকসান হয় না। যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।   (সূরা ফাত্বির, আয়াত: ২৯-৩০)   🟢কোরআন এমন সুপারিশকারী যার সুপারিশ তেলাওয়াতকারীর পক্ষে কবুল করা হবে।   হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে , জুবায়েদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ রা. বলেছেন, কোরআন এমন সুপারিশকারী যার সুপারিশ তেলাওয়াতকারীর পক্ষে কবুল করা হবে।  এমন বিতর্ককারী যার বিতর্ক তেলাওয়াতকারীর পক্ষে গ্ৰহণ করা হবে। অতএব যে কোরআনকে সামনে রাখবে তেলাওয়াত করবে ও তদানুযায়ী আমল করবে।কোরআন তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আর যে পিছনে রাখবে “কুরআনকে” (তেলাওয়াত করবে না ও তদানুযায়ী আমল করবে না ) কোরআন তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। -(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ১২৪)   *#আসুন_কুরআনের_আঙিনায়#*     Nazma _akter

সায়্যিদুল ইস্তিগফার (সর্বশ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার)

Image
  সায়্যিদুল ইস্তিগফার (সর্বশ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার) আরবি: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي، لا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ. উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বী, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাক্বতানী ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু, আউযু বিকা মিন শার্রি মা সানাতু, আবূউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবূউ বিধানবী, ফাগফিরলী, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয্ জুনূবা ইল্লা আনতা। বাংলা অনুবাদ: "হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমি আপনার দাস। আমি যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিতে অটল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার অনুগ্রহের স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আমার পাপ স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন, কারণ আপনি ছাড়া কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারেন না।" কখন পড়বেন? ...

ইফতার প্রস্তুতি: ইফতারের আগে কী করা উচিত?

Image
ইফতার প্রস্তুতি: ইফতারের আগে কী করা উচিত? রমজান হল সিয়াম, ইবাদত ও আত্মবিশ্লেষণের মাস, যা সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যাস্তের সময়, ইফতারের মুহূর্তটি অত্যন্ত প্রতীক্ষিত। তবে, ইফতারের সঠিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রোজার আধ্যাত্মিক ও শারীরিক উপকারিতা সর্বাধিক হয়। ইফতারের আগে কী করা উচিত? দোয়া করা ও ইবাদতে মগ্ন থাকা ইফতারের আগে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “রোজাদারের দোয়া ইফতারের সময় ফেরত দেওয়া হয় না।” (তিরমিজি) তাই এই সময়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা, দিকনির্দেশনা ও বরকতের জন্য দোয়া করা উচিত। সাধারণ কিন্তু পুষ্টিকর ইফতার প্রস্তুত করা নবী (সা.) ইফতারের জন্য সহজ ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সাধারণত খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙতেন, যা দ্রুত শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক। অন্যদের সাথে খাবার ভাগ করে নেওয়া ইফতারের সময় অন্যকে খাওয়ানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। নবী (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার মতোই পুরস্কার লাভ করবে, তবে রোজাদারের সওয়াব কমানো হবে না।” (তিরমিজি) তাই পরিবারের ...

রাগ নিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্যধারণ: ইসলামের নির্দেশনা

Image
  রাগ নিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্যধারণ: ইসলামের নির্দেশনা ইসলাম আমাদের নৈতিক উন্নতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায়। রাগ একটি স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি, তবে এটি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন ও হাদিসে রাগ নিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্যধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাগ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব রাগের ফলে আমরা প্রায়ই ভুল সিদ্ধান্ত নেই, যা আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "শক্তিশালী সেই ব্যক্তি নয় যে কুস্তিতে অপরকে পরাস্ত করে, বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে-ই যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।" (বুখারি, মুসলিম) রাগ নিয়ন্ত্রণের ইসলামিক উপায় ১. আউযুবিল্লাহ পড়া: রাগ উঠলে "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়তে বলা হয়েছে। এটি আমাদের অন্তরে শয়তানের প্রভাব কমায় এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। ২. নীরব থাকা: রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ রাগ করলে সে যেন চুপ থাকে।" (আহমাদ) নীরবতা রাগের সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে রক্ষা করে। ৩. অবস্থান পরিবর্তন করা: রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "যদি তোমাদের...

একজন মুসলিমের মনোভাব: ইসলামী দৃষ্টিকোণ

Image
  একজন মুসলিমের মনোভাব: ইসলামী দৃষ্টিকোণ ইসলাম শুধু একটি ধর্ম নয়, এটি একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা যা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়। একজন মুসলিমের মনোভাব বা দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত, তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শিক্ষা ও সুন্নাহ থেকে বোঝা যায়। মুসলিমের মনোভাব ও চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ১. আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস: একজন মুসলিমের মনোভাব হবে সর্বদা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা। আল্লাহর হুকুম মেনে চলা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। ২. সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতা: একজন প্রকৃত মুসলিম সর্বদা সত্য কথা বলে এবং ন্যায়পরায়ণতার পথে থাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে, পারিবারিক জীবনে এবং সামাজিক মেলামেশায় সততা বজায় রাখা জরুরি। ৩. অন্যের প্রতি সহানুভূতি ও দয়া: রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম যে অন্যের প্রতি সদয়।" দরিদ্র, এতিম ও অসহায়দের সাহায্য করা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। ৪. নম্রতা ও বিনয়: অহংকার ইসলামে নিষিদ্ধ; একজন মুসলিমের মনোভাব হবে নম্র ও বিনয়ী। বিনয়ী মনোভাব সামাজিক শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সহায়ক। ৫...

ইসলামিক জীবনধারা: একটি শান্তিপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন

Image
ইসলামিক জীবনধারা: একটি শান্তিপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন ইসলাম শুধুমাত্র একটি ধর্ম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার জন্য ইসলামিক জীবনধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের মূল শিক্ষা হলো শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবতার কল্যাণ। বাংলাদেশে ইসলামিক জীবনযাত্রার প্রভাব সুস্পষ্ট, এবং এটি আমাদের সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামিক জীবনধারার মূলনীতি ১. বিশ্বাস ও ইবাদত: ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভ হলো শাহাদাহ, সালাত, সাওম, যাকাত ও হজ্জ। নামাজ হলো মুসলমানদের জন্য দৈনন্দিন ইবাদত যা আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম উপায়। ২. নৈতিকতা ও আচার-আচরণ: সততা, বিনয়, দয়া ও ক্ষমাশীলতা ইসলামিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। অন্যের প্রতি সদাচরণ ও সত্যবাদিতা একজন প্রকৃত মুসলিমের পরিচয়। ৩. পারিবারিক জীবন: পরিবার ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি দায়িত্ব পালন করা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। সন্তানদের সঠিক ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রতিটি মুসলিম পিতামাতার দায়িত্ব। ৪. অর্থনৈতিক জীবন: ইসলামে ...

ধৈর্য্য (সবর)

Image
 ধৈর্য্য (সবর) আল্লাহর হুকুম মেনে চলার সময় মুমিনের ধৈর্যের প্রয়োজন, নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকার সময় তার ধৈর্যের প্রয়োজন, এবং ঐশী হুকুম গ্রহণ করার জন্য তার ধৈর্যের প্রয়োজন। যেহেতু তিনি এই তিনটির একটি বা একাধিক সাথে সর্বদা মোকাবেলা করবেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার ধৈর্যের প্রয়োজন; এটি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির মধ্যে একটি, কারণ এটি ছাড়া জীবন সঠিক হতে পারে না। এটি প্রতিটি সমস্যার জন্য কার্যকরী প্রতিকার। ভাষাগত পরিভাষায়, সবর (এখানে ধৈর্য হিসাবে অনুবাদ করা হয়েছে) অর্থ সংযম।  আল্লাহ বলেন: আর ধৈর্য্য ধারণ কর তাদের সাথে যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে।  [আল-কাহফ 18:28)। নিজেকে তাদের সাথে রাখুন। ইসলামী পরিভাষায়, সবর অর্থ নফসকে (নিজেকে) যা পছন্দ করে এবং যা কামনা করে তা অনুসরণ করা থেকে বিরত রাখা এবং আতঙ্কিত হওয়া থেকে বিরত রাখা এবং মহৎ বিষয়ে তার মনোযোগ বজায় রাখতে বাধ্য করা। ধৈর্যের হুকুম (সবর): মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্য অনুযায়ী ধৈর্য (সবর) ফরজ। আল্লাহ তায়ালা তাঁর নোবেল কিতাবে একাধিক জায়গায় এর নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন তিনি বলেছেন: (এবং ধৈর্য (সাবর) ও নামাজের মাধ...