কুরআন ও হাদীসে মানুষের মর্যাদা, সম্মান এবং আত্মসম্মান রক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা

 ইসলামে আত্মসম্মান (Self-respect / মর্যাদা) খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কুরআন ও হাদীসে মানুষের মর্যাদা, সম্মান এবং আত্মসম্মান রক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

উপস্থাপনায় ঃ নাজমা আক্তার 


আল্লাহ মানুষের মর্যাদা দিয়েছেন।আলহামদুলিল্লাহ।



কুরআনে আল্লাহ বলেছেন:“আমি আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি” (সূরা আল-ইসরা ১৭:৭০)

অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে মর্যাদা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। কারো আত্মসম্মান ছোট করা বা অবমাননা করা ইসলাম অনুমোদন করে না।


🔰আত্মসম্মান রক্ষা ঈমানের অংশ


রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:“একজন মুসলিমের রক্ত, সম্পদ এবং সম্মান অপর মুসলিমের জন্য হারাম।” (সহীহ মুসলিম)

এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অন্যের ইজ্জত বা সম্মান নষ্ট করা বড় গুনাহ।


🔰আত্মসম্মান মানে অহংকার নয়

📌আত্মসম্মান মানে নিজের মর্যাদা ও সততা বজায় রাখা।

📌তবে অহংকার (কিবর) ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে।

রাসূল ﷺ বলেছেন:“যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (সহীহ মুসলিম)


🔰আত্মসম্মান ও দীনদারী


ইসলামে আত্মসম্মান মূলত আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা, অন্যের কাছে হাত না পাতা, নিজেকে লজ্জাহীন কাজ থেকে বাঁচানো—এর মাধ্যমেই প্রকাশ পায়।

রাসূল ﷺ বলেছেন:

“সবচেয়ে ধনী সেই ব্যক্তি, যে অন্তরে আত্মতুষ্ট (কানাআতশীল) থাকে।” (তিরমিজি)


🔰আত্মসম্মান বজায় রাখার উপায়

📌সততা বজায় রাখা

📌অন্যকে অবমূল্যায়ন না করা

📌অপমান সহ্য করার পরও প্রতিশোধে সীমা লঙ্ঘন না করা

📌নিজের দোষ-ত্রুটি সংশোধনে সচেষ্ট থাকা

📌আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে অন্তরের মর্যাদা বৃদ্ধি করা


🔰মুফাসসিরদের মতামতঃ 


আল্লাহ তা'আলা আদম-সন্তানকে বিভিন্ন দিক দিয়ে এমন সব বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, যেগুলো অন্যান্য সৃষ্টজীবের মধ্যে নেই। 


মানুষকে দু' পায়ে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তাকে হাতে খাওয়ার শক্তি দেয়া হয়েছে। অন্যান্য প্রাণী চারপায়ে এবং মুখ দিয়ে খায়। মানুষের মধ্যে যে চোখ, কান ও অন্তর দেয়া হয়েছে সে এসবকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে। দীনী ও দুনিয়াবী বিষয়ে সে এগুলো দ্বারা ভাল-মন্দ বিচার করতে পারে। (তাফসীর ইবন কাসীর)


বস্তুত এ বুদ্ধি ও চেতনায় মানুষকে বিশেষ স্বাতন্ত্র্য দান করা হয়েছে। এর সাহায্যে সে সমগ্র উর্ধ্ব-জগত ও অধঃজগতকে নিজের কাজে নিয়োজিত করতে পারে। আল্লাহ তা'আলা তাকে বিভিন্ন সৃষ্টবস্তুর সংমিশ্রণে বিভিন্ন শিল্পদ্রব্য প্রস্তুত করার শক্তি দিয়েছেন, সেগুলো তার বসবাস, চলাফেরা, আহার্য ও পোশাক-পরিচ্ছদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাকশক্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার যে নৈপুণ্য মানুষ লাভ করেছে, তা অন্য কোনো প্রাণীর মধ্যে নেই। বিবেক-বুদ্ধি ও চেতনা মানুষের সর্বপ্রধান শ্রেষ্ঠত্ব। এর মাধ্যমে সে স্বীয় সৃষ্টিকর্তা ও প্রভুর পরিচয় এবং তার পছন্দ ও অপছন্দ জেনে পছন্দের অনুগমন করে এবং অপছন্দ থেকে বিরত থাক (ফাতহুল কাদীর)


যার আত্মসম্মান নেই, তাকে কেউ সত্যিকারের ভালোবাসে না। ইসলামে আত্মসম্মান মানে হলো,নিজেকে ছোট বা হীন মনে না করা, মানে নিজেকে মর্যাদাবানভাবে রাখা, সততা বজায় রাখা এবং হারাম থেকে দূরে থাকা। 

নিজেকে সম্মান করুন, অন্যকেও সম্মান দিন।এটাই প্রকৃত ভালোবাসা। আল্লাহর দাস হিসেবে মর্যাদা রক্ষা করা, অন্যকে সম্মান দেওয়া, এবং হারাম বা লজ্জাজনক কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা। এটি একজন মুসলিমের চরিত্রের সৌন্দর্যের অংশ।


#SelfRespect #IslamicQuotes #TrueLove #RespectYourself #PositiveVibes #FaithAndMorals #DailyInspiration #আসুন_কুরআনের_আঙীনায় #quranwithnazma #LightOfQuran #TafsirDrZakaria

Comments

Popular posts from this blog

ইফতার প্রস্তুতি: ইফতারের আগে কী করা উচিত?

লাইলাতুল কদর বেজোড় রাতে খোঁজার নির্দেশ