Posts

Showing posts from February, 2026

ইচ্ছা ও খেয়াল-খুশির প্রভাব: হৃদয়ের রোগ থেকে মুক্তির পথ

Image
  ইচ্ছা ও খেয়াল-খুশির প্রভাব: হৃদয়ের রোগ থেকে মুক্তির পথ মানুষের হৃদয় হলো তার চরিত্র, ইবাদত ও আচরণের মূল কেন্দ্র। কিন্তু অনেক সময় আমরা আমাদের নফস, ইচ্ছা ও খেয়াল-খুশির জালে আটকে পড়ি, যা আমাদের ইসলামী জীবন, ইমান এবং আখেরাতের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এই ব্লগে আমরা জানব—কেন খেয়াল-খুশি এবং আকাঙ্ক্ষার অনুসরণ ক্ষতিকর, এর কারণগুলো কি এবং আমরা কিভাবে নিজের হৃদয়কে সুস্থ রাখতে পারি। ইচ্ছা ও খেয়াল-খুশির সংজ্ঞা ভাষাগত অর্থে, “হাওয়া” হলো কোনো জিনিস পছন্দ করা বা আকাঙ্ক্ষা করা। ইসলামী পরিভাষায়, হাওয়া মানে হলো—ইসলামের নির্দেশাবলীর প্রতি অমনোযোগী হয়ে শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছার আনন্দ খোঁজা। শরীয়াহ আমাদের সতর্ক করেছে, যে কোনো কাজের মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত আল্লাহর নসিহত, কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী হতে হবে, না কি শুধুমাত্র নফসের ইচ্ছার দ্বারা। ইচ্ছা অনুসরণের কারণগুলো মানুষ কেন নিজের খেয়াল-খুশি অনুসরণ করে? মূল কারণগুলো হলো: শিশুকাল থেকে নিয়ন্ত্রণহীন: ছোটবেলায় যখন কেউ নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে এবং সীমাবদ্ধতা শেখানো হয় না, তখন সে বড় হয়ে ইচ্ছার দাস হয়ে যায়। প্রতিকূল সঙ্গ: যারা...

“তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় তারাই, যারা তোমাদের মধ্যে আচরণের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম।

  “তোমাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় তারাই, যারা তোমাদের মধ্যে আচরণের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম।” এর মূল শিক্ষা কী? 🔹 নবী ﷺ–এর নিকট প্রিয় হওয়ার মানদণ্ড এখানে রাসূল ﷺ স্পষ্ট করে দিয়েছেন— তাঁর কাছে প্রিয় হওয়ার মাপকাঠি হলো: সুন্দর আচরণ শালীন ভাষা ধৈর্য, সহনশীলতা ও নম্রতা ইবাদতের সংখ্যা নয়, বরং মানুষের সাথে ব্যবহার । 🔹 আচরণ ঈমানের প্রতিফলন উত্তম আখলাক প্রমাণ করে— হৃদয় পরিশুদ্ধ ঈমান জীবন্ত সুন্নাহ বাস্তব জীবনে কার্যকর এ কারণেই নবী ﷺ বলেছেন: “মুমিনদের মধ্যে পূর্ণ ঈমানদার তারাই, যাদের চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।” 🔹 সুন্দর আচরণ—সবাইকে নিয়ে এই হাদিস শুধু পরিবার বা বন্ধুদের জন্য নয়— শত্রু ভিন্নমতাবলম্বী দুর্বল ও সাধারণ মানুষ সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। উপসংহার যে ব্যক্তি নবী ﷺ–এর ভালোবাসা চায়, সে যেন প্রথমে নিজের আচরণ সুন্দর করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম আখলাকের মাধ্যমে নবী ﷺ–এর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।

তাকফিরের বিদ‘আত—উম্মাহর জন্য এক ভয়াবহ বিপদ

Image
  তাকফিরের বিদ‘আত—উম্মাহর জন্য এক ভয়াবহ বিপদ ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু ভ্রান্ত ধারণা ও বিদ‘আত রয়েছে, যা শুধু ব্যক্তি নয়— পুরো উম্মাহকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে । এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক, সবচেয়ে ক্ষতিকারক এবং আল্লাহর ক্রোধ ও কঠিন শাস্তির দিকে সবচেয়ে দ্রুত নিয়ে যায় এমন একটি বিদ‘আত হলো— অন্য মুসলমানকে কাফের (তাকফির) মনে করা । এই ভ্রান্ত আক্বীদার সূচনা করেছিল খারেজিরা , যারা সালিশের ঘটনার পর খলিফা আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। তাকফির কী? তাকফির বলতে বোঝায়— 👉 কাউকে নিশ্চিতভাবে মুসলিম প্রমাণিত হওয়ার পরও 👉 তাকে কাফের বা অবিশ্বাসী বলে গণ্য করা । এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়; বরং এটি একটি শরয়ী সীমালঙ্ঘন , যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। তাকফিরের ভয়াবহ পরিণতি রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকফিরের ব্যাপারে উম্মাহকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার ভাইকে বলে: ‘হে কাফের’, তাদের একজনের উপর তা ফিরে যায়।” — সহীহ বুখারী ও মুসলিম আরও বলেছেন: “কেউ অন্যায়ভাবে কাউকে কুফরের অভিযোগ করলে, সে যদি প্রকৃতপক্ষে কাফের না হয়, তবে অভিযোগটি তা...

বিদ‘আত কী এবং কেন তা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি?

Image
  বিদ‘আত কী এবং কেন তা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি? আল্লাহর দ্বীনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো সঠিক আক্বীদা । আক্বীদা বিশুদ্ধ না হলে ইবাদত বাহ্যিকভাবে সুন্দর হলেও তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। এই পর্বে আমরা আলোচনা করবো একটি সংবেদনশীল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— বিদ‘আত । অনেক সময় দেখা যায়, কিছু মানুষ বলে থাকেন: “আমরা তো নামাজ পড়ছি, যিকির করছি, এতে সমস্যা কোথায়? আমরা তো কোনো ঝামেলা করছি না।” কিন্তু ইসলামে কোনো কাজ ভালো মনে হলেই তা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। বরং প্রতিটি ইবাদতের জন্য কুরআন ও সুন্নাহ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ থাকতে হয়। বিদ‘আত কী? বিদ‘আত বলতে বোঝায়— ➡️ দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো ইবাদত বা পদ্ধতি সংযোজন করা, ➡️ যার কুরআন, সহীহ সুন্নাহ বা সাহাবীদের আমল থেকে কোনো প্রমাণ নেই , ➡️ অথচ সেটিকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম মনে করা হয়। নবী ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কিছু সংযোজন করলো, যা এর অংশ নয়—তা প্রত্যাখ্যাত।” — সহীহ বুখারী ও মুসলিম   উদাহরণ: আল-ক্বিরাআত আস-সামাদিয়্যাহ কিছু তরীকাহ ও গোষ্ঠীর মধ্যে একটি প্রচলিত আমল হলো— 🔸 সূরা আল-ইখলাস...